ঘুমের সময় ফোন কি মাথার কাছে? এখনই সাবধান হোনঘুমের সময় ফোন কি মাথার কাছে? এখনই সাবধান হোন
ঘুমের সময় ফোন কি মাথার কাছে? এখনই সাবধান হোন।   ছবি: সংগৃহীত

স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও ঘুমানোর সময় একে মাথার কাছে রাখা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ফোনের রেডিয়েশন ও নীল আলোর সংস্পর্শে থাকা ক্যানসারসহ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আপনার দেওয়া তথ্যগুলো নিচে সহজ ও কার্যকরভাবে পুনর্লিখন করা হলো:

বালিশের পাশে মোবাইল রেখে ঘুমানোর ৫টি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি
অনেকেই অ্যালার্ম বা জরুরি কলের প্রয়োজনে ফোন মাথার কাছে নিয়ে ঘুমান। কিন্তু এই অভ্যাসটি আপনার অজান্তেই শরীরে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করছে। কেন ফোন দূরে রাখা জরুরি, তার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন ও ক্যানসার ঝুঁকি:
মোবাইল ফোন থেকে 'নন-আয়নাইজিং' ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ নির্গত হয়। যদিও এটি সরাসরি ডিএনএ নষ্ট করে না, তবে দীর্ঘ সময় মাথার খুব কাছে ফোন থাকলে শরীর এই তরঙ্গের সংস্পর্শে বেশি থাকে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত রেডিয়েশন শরীরের কোষের ওপর সূক্ষ্ম প্রভাব ফেলে, যা ভবিষ্যতে ক্যানসারের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

২. ঘুমের হরমোন 'মেলাটোনিন' বাধাগ্রস্ত হওয়া:
ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো (Blue Light) শরীরে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। এই হরমোন আমাদের ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে মেলাটোনিন কমে গেলে গভীর ঘুম হয় না এবং অনিদ্রার সমস্যা দেখা দেয়।
৩. মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি:
ফোন কাছে থাকলে মাঝরাতে নোটিফিকেশন বা মেসেজ চেক করার প্রবণতা বাড়ে। এতে মস্তিষ্কের বিশ্রাম বিঘ্নিত হয়। নিয়মিত ঘুমের এই ধারাবাহিকতা নষ্ট হলে উদ্বেগ, সারাদিন ক্লান্তি অনুভব করা এবং মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে।

৪. ব্যাটারি বিস্ফোরণ ও আগুনের ঝুঁকি:
ফোন চার্জে দিয়ে বালিশ বা কম্বলের নিচে রেখে ঘুমানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে ফোন থেকে নির্গত তাপ বের হতে পারে না, ফলে ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

৫. গবেষকদের পরামর্শ:
সুস্থ থাকতে গবেষকরা ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন শরীর থেকে অন্তত এক মিটার (৩ ফুট) দূরে রাখার পরামর্শ দেন। এছাড়া ভালো ঘুমের জন্য ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ করা এবং চার্জে থাকা অবস্থায় ফোন বিছানায় না রাখাই নিরাপদ।

এমআর/আরটিএনএন