শিশুদের শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক খাবার ও পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত অভিভাবকদেরই।
শিশুদের শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক খাবার ও পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত অভিভাবকদেরই।   ছবি: সংগৃহীত

রমজান মাসে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নারী–পুরুষই রোজা রাখেন না, অনেক সময় পরিবারের ছোট শিশুদের মধ্যেও রোজা রাখার আগ্রহ দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের বাড়তি সচেতন থাকা জরুরি। শিশুদের শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক খাবার ও পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত অভিভাবকদেরই।

ইসলাম অনুযায়ী বালেগ হওয়ার আগে রোজা ফরজ নয়। মহানবী  (সা.) বলেছেন, ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু বালেগ হওয়া পর্যন্ত তার ওপর দায়িত্ব লেখা হয় না।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)। তবে শারীরিকভাবে সক্ষম হলে ধীরে ধীরে শিশুদের রোজার অভ্যাস করানো যেতে পারে।

শিশুদের সাহরি ও ইফতারে কী ধরনের খাবার থাকা উচিত, সে বিষয়ে জানিয়েছেন রাজধানীর লালবাগের উদয় ডক্টর কনসালটেন্সি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন–এর ডেডিকেটেড কোভিড–১৯ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আইভি আক্তার।

বালেগ হওয়ার লক্ষণ

ছেলেদের ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষ বা বীর্যপাত শুরু হওয়া এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব শুরু হওয়া বালেগ হওয়ার লক্ষণ। তবে এসব লক্ষণ না থাকলেও সাধারণত ১৫ বছর বয়স থেকে বালেগ ধরা হয়। আর বালেগ হওয়ার পর থেকেই রোজা ফরজ হয়।

পুষ্টির সঠিক ভারসাম্য

সাহরি ও ইফতারের খাবারে পুষ্টির সঠিক ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেট ৫০–৫৫ শতাংশ, প্রোটিন ১৫–২০ শতাংশ এবং ফ্যাট ২৫–৩০ শতাংশ থাকা উচিত।

কোন খাবার ভালো

কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট: এগুলো শরীরে ধীরে শক্তি যোগায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। যেমন—লাল চাল, আটার রুটি, ওটস, ডাল, ছোলা ও শাকসবজি।

প্রোটিন: শরীরের পেশি গঠন ও শক্তি বাড়াতে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য ডিম, মাছ, মুরগি, দুধ, ডাল ও বাদামজাতীয় খাবার রাখা যেতে পারে।

স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হজম হতে সময় নেয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। যেমন—বাদাম, তিল, অলিভ অয়েল, সরিষার তেল ও সামান্য ঘি।

সাহরিতে যা থাকবে

সাহরিতে লাল চালের ভাত বা রুটি, সামান্য ঘি, ডিম, ডাল বা মাছ–মাংস রাখা যেতে পারে। সঙ্গে দুধ বা দইয়ের সঙ্গে চিয়া সিড, কিছু বাদাম, একটি কলা, এক–দুটি খেজুর এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা ভালো। কলা ও খেজুরে থাকা পটাশিয়াম তৃষ্ণা কমাতে সহায়তা করে।

ইফতারে কী খাওয়াবেন

ইফতারে খেজুর ও পানি দিয়ে শুরু করা ভালো। এরপর ফল, স্যুপ, ছোলা, হালকা ভাত, পোলাও বা রুটি এবং মাছ বা মুরগি রাখা যেতে পারে। ভাজাপোড়া কম খাওয়াই ভালো। তবে শিশুরা খুব চাইলে সামান্য তেল দিয়ে বাসায় তৈরি এক–দুটি পেঁয়াজু বা আলুর চপ দেওয়া যেতে পারে।

বাড়তি যত্ন ও বিশ্রাম

ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত শিশু যেন পর্যাপ্ত পানি পান করে সেদিকে কড়া নজর রাখুন। গরমে রোজার সময় শিশুকে নিয়মিত গোসল করান এবং দুপুরে কিছুটা সময় বিশ্রাম বা ঘুমের সুযোগ দিন।শিশু যেন রোজা রেখে মানসিকভাবে আনন্দিত থাকে, সে জন্য পরিবারের সবাই তাকে উৎসাহিত করুন।

সতর্কতা

ডা. আইভি আক্তার বলেন, অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা বমি হলে রোজা ভাঙা বৈধ। শিশুদের ডায়াবেটিস, অ্যাজমা বা অপুষ্টির সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার বিষয় নয়; এটি ধৈর্য, সংযম ও তাকওয়ার শিক্ষা দেয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ধর্মীয় শিক্ষা ও সঠিক পুষ্টির সমন্বয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।