ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ হল, সরস্বতী পূজা
সরস্বতী পূজা উপলক্ষে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।   ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হল ১৪৩২ সালের সরস্বতী পূজা উদযাপনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে কেন্দ্রীয় পূজা ও মোট ৭৬টি মণ্ডপে আয়োজন, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৪টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।

দুদিনব্যাপী পূজা উৎসবে থাকবে পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য প্রাঙ্গণে থাকছে বিভিন্ন রাইড ও খেলনা, পাশাপাশি বিশুদ্ধ খাবারের দোকান।

পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন ও শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষ এবং প্রক্টর মহোদয়দের তত্ত্বাবধানে জগন্নাথ হল প্রশাসন কাজ করছে। কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপসহ পুরো প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), শাহবাগ থানা ও ফায়ার সার্ভিস প্রয়োজনীয় লোকবল ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

হল প্রশাসন জানিয়েছে, সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় রীতি, আচার, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রেখে পূজার যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ছাত্র সংসদসহ বিভিন্ন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছেন।

দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক প্রতিমা দর্শনের জন্য প্রতিটি প্রবেশদ্বার ও উপাসনালয় সংলগ্ন স্থানে নির্দেশনাসংবলিত লিফলেট বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে—সিসি ক্যামেরার আওতায় পুরো হল, প্রবেশমুখে মেটাল ডিটেক্টর, ছোট শিশুদের জন্য নিরাপদ দুগ্ধ সেবা কর্নার, পটকা ও আতশবাজি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে স্টিকার ব্যবস্থার ব্যবস্থা।

অগ্নি নিরাপত্তা জোরদারে পলাশীস্থ ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে একটি অগ্নি নির্বাপন মহড়াও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

জগন্নাথ হল প্রশাসন জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই হল সকল ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সংবেদনশীল ও শ্রদ্ধাশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। সকল ধর্মের প্রতি সমান আচরণের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধর্ম, মত, আদর্শ, শ্রেণি ও পেশার মানুষকে সরস্বতী পূজার এই সর্বজনীন আয়োজনে সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, উৎসবে আগত পুণ্যার্থীদের উপস্থিতিতে জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণ হবে সম্প্রীতির এক অপূর্ব মিলনমেলা এবং মাঙ্গলিক আয়োজনে সকলের অংশগ্রহণ হল পরিবারকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করবে।