দ‌ক্ষিণ এ‌শিয়ার নিরাপত্তা ও উন্নয়ন: মিডিয়ার দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জা‌তিক সংলাপ
দ‌ক্ষিণ এ‌শিয়ার নিরাপত্তা ও উন্নয়ন: মিডিয়ার দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জা‌তিক সংলাপ।   ছবি: সংগৃহীত

দি‌ল্লি‌তে  হয়ে গেল দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা, সীমান্ত উত্তেজনা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ—এই জটিল বাস্তবতায় গণমাধ্যম কীভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতার সহায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়ে এক‌টি আন্তর্জা‌তিক সংলাপ  ।

ইন্টারনাল কোয়া‌লি‌টি এ‌সিউ‌রেন্স সেল (IQAC) এর উ‌দ্যো‌গে এবং সার্ক জার্না‌লিস্ট ফোরাম ই‌ন্ডিয়া চ‌্যাপ্টা‌রের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মিডিয়া কনক্লেভে প্রতিপাদ্য ছিল `দ‌ক্ষিণ এ‌শিয়ার নিরাপত্তা এবং সমৃ‌দ্ধি: গণমাধ‌্যম ও সাংবা‌দিকতার দর্পণে এক‌টি পর্যবেক্ষণ `। 

দি‌ল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ‌ধিভুক্ত শ‌্যামলাল কলেজে অনু‌ষ্ঠিত এই সংলা‌পে অংশগ্রহণ ক‌রেন এস‌জিএফ-এর প্রেসি‌ডেন্ট রাজু লামা, ‌সেক্রেটা‌রি জেনা‌রেল আবদুর রহমান, ই‌ন্ডিয়া চ‌্যাপ্টা‌রের প্রেসি‌ডেন্ট ড. অ‌নিরুদ্ধ শুধাংশু, বাংলা‌দেশ চ‌্যাপ্টা‌রের ভাইস প্রেসি‌ডেন্ট আসিফ হাসান নবীসহ সার্কভুক্ত দেশগু‌লোর সাংবা‌দিক নেতৃবৃন্দ এবং দি‌ল্লির থিংক ট‌্যাংক ব‌লে খ‌্যাত ক‌য়েকজন বি‌শেষজ্ঞ। 

মূল প্রবন্ধ পাঠ ক‌রেন ক‌লে‌জের অধ‌্যক্ষ আন্তর্জা‌তিক রাষ্ট্র বিজ্ঞা‌নি ড. ন‌চি‌কেতা সিং। আ‌লোচনায় বক্তারা ব‌লেন, দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা ও উন্নয়নকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক সংঘাত, উগ্রবাদ, জলবায়ু সংকট ও দারিদ্র্য—সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িত। এই বাস্তবতাকে জনগণের সামনে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে, দায়িত্বজ্ঞানহীন বা পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশন অনেক সময় উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে, যা আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। বিপরীতে, তথ্যভিত্তিক ও সংবেদনশীল সাংবাদিকতা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

বক্তারা সতর্ক করে বলেন, ফেক নিউজ, গুজব ও ডিজিটাল প্রপাগান্ডার যুগে সাংবাদিকদের পেশাগত নৈতিকতা আরও বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে। ভুল তথ্য শুধু সামাজিক বিভ্রান্তি নয়, অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের উচিত জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়া। সংঘাতকে উসকে দেওয়া নয়, বরং সমস্যার মূল কারণ ও সমাধানের পথ তুলে ধরা হওয়া উচিত মিডিয়ার লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সার্ভুকক্ত দেশগুলোর সাংবাদিকদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়লে সীমান্তপারের ভুল বোঝাবুঝি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ায় পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।