ইশরাক হোসেন
রাজধানীর ওয়ারীর রবিদাসপাড়া এলাকায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ইশরাক হোসেন।   ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা–৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, নির্বাচিত হলে তাঁর নির্বাচনি এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি কিংবা অবৈধ দখলের কোনো জায়গা থাকবে না। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে বলে তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওয়ারীর রবিদাসপাড়া এলাকায় রেংগস অনামিকা ও রবিদাসপাড়া অ্যাপার্টমেন্ট ল্যান্ড ওনারদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মাদক ঢুকিয়ে দেশকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ করিয়ে ছাত্র ও যুব সমাজকে বিপথে নেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি।

তিনি বলেন, অতীত সরকারের সময়ে একজন মাদক গডফাদারকে সংসদে পাঠানো হয়েছিল। পরে বিতর্কের মুখে তাঁকে সরিয়ে তাঁর স্ত্রীকে সংসদ সদস্য করা হয়। একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার তরুণ সমাজকে ধ্বংস করলেই যথেষ্ট—এই লক্ষ্যেই দেশকে একটি ‘দাস রাষ্ট্রে’ পরিণত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

বাংলাদেশের ওপর আধিপত্যবাদী শক্তির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করে ইশরাক হোসেন বলেন, এ বিষয়ে তাঁর অবস্থান আপসহীন। সুযোগ পেলে স্থানীয় পর্যায়ে মাদকের স্পটগুলো বন্ধ করতে নিজেই মাঠে থাকবেন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় সড়ক ও ফুটপাত দখলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন বিএনপির এই প্রার্থী। তিনি বলেন, রাস্তা ও ফুটপাত সরকারি সম্পত্তি। পরিচয় বা ক্ষমতা যা–ই হোক না কেন, সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এসব দখলের কারণে যানজট বেড়েছে এবং এলাকার পরিবেশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। নির্বাচিত হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইশরাক হোসেন বলেন, এর আগে তিনি কোনো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বা জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেননি। সে কারণে জনগণের কাছে একটি সুযোগ চান তিনি। নির্বাচিত হলে একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে জনগণ যে দায়িত্ব ও সেবা প্রত্যাশা করে, তা আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করেন।

তিনি আরও বলেন, এলাকার মুরুব্বিদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা নিয়ে নাগরিক সমস্যা সমাধানে কাজ করা হবে। দীর্ঘদিন অবহেলিত ঢাকা–৬ আসনকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য এলাকায় পরিণত করার আশ্বাস দেন তিনি।