সারাদেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
সারাদেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।   ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা নিজ নিজ কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।

রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়েছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। কিছু কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে চলছে। ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন। সাদা ব্যালটে সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য আর গোলাপি ব্যালটে গণভোটের জন্য।

‎নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার এবার তাদের ভোট দিচ্ছেন। এরমধ্যে পুরুষ ‎ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে 'ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার মিলিয়ে মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচনে।

‎২৯৯টি আসনে (শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত) ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫ জন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন এবং পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৯৪৬ জন।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে; সেনাবাহিনী থাকবে ১ লাখ ৩ হাজার, নৌবাহিনী ৫ হাজার (উপকূলীয় ১৭ আসনে), বিমান বাহিনী ৩ হাজার ৫০০, পুলিশ ও র‍্যাব: ১ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫২, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন, বিজিবি ও অন্যান্য: ৪২ হাজার ৯৬০ জন।

নির্বাচনী অপরাধ দমনে ৬৫৭ জন বিচারিক হাকিম এবং ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী হাকিম মাঠে রয়েছেন। ইতোমধ্যে ৪৬৮টি আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ২৫৯টি মামলা হয়েছে এবং প্রায় ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

‎ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬-১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মেহেরপুর জেলার দুটি সংসদীয় আসনের ২১৩ টি কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনে পুলিশ, আনসার, র‌্যাব, বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা আইন শৃংখলা রক্ষায় মাঠে রয়েছেন। 

সদর ও মুজিবনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত মেহেরপুর-১ আসনে ১২৩ টি ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৭৫ জন। প্রার্থী রয়েছেন ৪ জন। এরা হলেন- বিএনপির মাসুদ অরুন, জামায়াত জোটের মাও. তাজ উদ্দীন খান, জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ এবং বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি-সিপিবি প্রার্থী মিজানুর রহমান। 

মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে তিন জন প্রার্থী রয়েছেন। এর হলেন- বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন, জামায়াত জোট প্রার্থী নাজমুল হুদা এবং জাতীয় পার্টির আব্দুল বাকি। 
এ আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজার ৭০৫ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৯০টি।

এমআর/আরটিএনএন