চট্টগ্রাম, গ্যাস বিস্ফোরণ
দগ্ধ ৯ জনকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।   ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি আবাসিক ভবনে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে দগ্ধদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে নুরজাহান আক্তার রানী (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, তার শরীরের শতভাগ দগ্ধ ছিল। সোমবার ভোর ৫টার দিকে হালিশহর এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই বাসায় আগুন ধরে যায়।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন।

স্থানীয়রা জানান, সেহরির সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পরিবারের সদস্যরা আগুনে দগ্ধ অবস্থায় ঘর থেকে বের হয়ে আসেন।

দগ্ধ ৯ জনকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ স্থানান্তর করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা নুরজাহান আক্তার রানীকে মৃত ঘোষণা করেন।

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, নিহত রানীর শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। অন্যদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন—রানীর স্বামী সাখাওয়াত হোসেন (৪৬), বড় ছেলে শাওন (১৭), ছোট মেয়ে আইমান (৯), সাখাওয়াতের দুই ভাই শিপন (৩০) ও সামির হোসেন সুমন (৪০), সামিরের বড় ছেলে আনাস (৭), ছোট মেয়ে আয়েশা আক্তার (৪) এবং তার স্ত্রী পাখি আক্তার (৩৫)।

চিকিৎসকরা জানান, সাখাওয়াত ও পাখি আক্তারের শরীরের ১০০ শতাংশ, শিপনের ৮০ শতাংশ, সামিরের ৪৫ শতাংশ, শাওনের ৫০ শতাংশ, আইমানের ৩৮ শতাংশ, আনাসের ৩০ শতাংশ এবং আয়েশার ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। কয়েকজনকে ইতোমধ্যে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। অন্যদেরও পর্যবেক্ষণ শেষে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হতে পারে।

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম থেকে দগ্ধদের ঢাকায় আনার বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে দগ্ধের মাত্রা বেশি হওয়ায় সবার অবস্থাই সংকটাপন্ন।

ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, এলপি গ্যাস সিলিন্ডার নয়, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির লাইনের গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘরে জমে ছিল। সেখান থেকেই ভয়াবহ এ বিস্ফোরণের সূত্রপাত।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।