জুলকারনাইন সায়ের, বি এম সুলতান, প্রসিকিউটর
বি এম সুলতান মাহমুদ (বামে) এবং জুলকারনাইন সায়ের (ডানে)।   ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছেন।

পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের সঙ্গে তার দীর্ঘ সময় কথা হয়েছে। আলোচনায় তাজুল ইসলাম প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ-এর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের কথা তুলে ধরেন।

তাজুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী, বি এম সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপনে অননুমোদিত ব্যক্তির কাছে পাঠানো, নিজের গানম্যান দিয়ে হাইকোর্টের এক দাঁড়োয়ানকে পাকড়াও করে অফিস কক্ষে নিয়ে মারধর করানো এবং নিজ স্ত্রীর প্রতি শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক নির্যাতনের মতো অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে অবগত হয়ে এবং উদ্বেগ প্রকাশ করে তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তৎকালীন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল-এর কাছে একটি চিঠি পাঠান বলে দাবি করেছেন। চিঠিটির একটি কপি জুলকারনাইন সায়েরের কাছে পাঠানো হয়েছে, যা তিনি জনস্বার্থে প্রকাশ করেছেন।

তাজুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, চিঠিটি আমলে নিয়ে তৎকালীন আইন উপদেষ্টা বি এম সুলতান মাহমুদের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেন। এ বিষয়ে অবগত হয়ে সুলতান মাহমুদ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। পরবর্তীতে নির্বাচনী ডামাডোলের কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তার স্থলে নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হলে, পূর্বের ক্ষোভ থেকে বি এম সুলতান মাহমুদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিদ্বেষপ্রসূত ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ করেন তাজুল ইসলাম।

এ বিষয়ে বি এম সুলতান মাহমুদের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা চলছে।