ভূমিকম্প
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের ভূমিকম্প প্রায় ১০০–১৫০ বছরের ব্যবধানে পুনরায় আসে।   ফাইল ছবি

গত বছরের ২১ নভেম্বর নরসিংদীতে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশের অভ্যন্তর কেঁপে ওঠে। এতে কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটে। এরপর মাত্র তিন মাসের মাথায়, শুক্রবার, জুমার নামাজের পর সারাদেশে ৫.৪ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ১০ দফা ভূমিকম্প হয়েছে, গড়ে প্রায় দুই দিনে একবার।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, যদি রিখটার স্কেলে ৬ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে, তবে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, বাংলাদেশের আশপাশে বড় ভূমিকম্পের তালিকায় আছে ১৭৬২ সালের ‘গ্রেট আরাকান আর্থকোয়েক’, যার মাত্রা ছিল ৮.৫। এতে চট্টগ্রাম, ফেনী ও কুমিল্লা অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর ১৮৯৭ সালে আসামে ৮.৭ মাত্রার, ১৯১৮ সালে সিলেটের বালিসিরা উপত্যকায় ৭.৬ এবং ১৯৩০ সালে আসামের ধুবড়িতে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানান, বড় ধরনের ভূমিকম্প প্রায় ১০০–১৫০ বছরের ব্যবধানে পুনরায় আসে। এই হিসাব অনুযায়ী, ৭ মাত্রার কম্পনের পুনরাবৃত্তি হয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে।

ঢাকা শহরে মোট ২১ লাখ ভবন রয়েছে, যার মধ্যে ছয় লাখ ভবন ছয়তলার ওপর। বড় ভূমিকম্প হলে এই ছয় লাখ ভবন সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকবে।

আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা বলেন, বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা—এ তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। দেশের ভেতরে ও আশপাশে বড় বড় ফল্ট রয়েছে। প্লেটগুলো সরার বা ধাক্কা দেওয়ার সময় জমে থাকা শক্তি শিলা ফাটল দিয়ে বের হলে কম্পন তৈরি হয়, যা ভূমিকম্প হিসেবে অনুভূত হয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, বাংলাদেশে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ফল্ট হলো ডাউকি ফল্ট, যা শেরপুর থেকে শুরু করে জাফলং হয়ে ভারতের করিমগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত।

অন্যদিকে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, শুক্রবার সকালের কম্পন ছিল মধ্যম মাত্রার। শক্তি বেশি না হলেও অনুভূতিটা তীব্র ছিল। আপাতত আফটারশকের কোনো শঙ্কা নেই। মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কিছু সময় আফটারশকের সম্ভাবনা থাকে, তবে সব সময় তা তীব্র হয় না।