বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্য এখন নতুন সরকারের হাতে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার মাত্র আঠারো মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে দায়মুক্তি, সংবিধান সংস্কার, সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বৃদ্ধি, এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার মতো স্পর্শকাতর বিষয়।
আইনজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কিছু সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আদেশ ও দায়মুক্তির অধ্যাদেশ নিয়ে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্ক রয়েছে। নতুন বিএনপি সরকার এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করবে, তবে সব অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। যেসব অধ্যাদেশে আইনি ভিত্তি দেওয়া হবে না, সেগুলোর অধীনে পূর্বে করা কর্মকাণ্ডের বৈধতা হারাবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার দায়মুক্তি অধ্যাদেশ সবচেয়ে সংবেদনশীল। আইনগতভাবে এ অধ্যাদেশ বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে, তবে সরকারের মনোভাব থেকে বোঝা যাচ্ছে, তারা এই অধ্যাদেশের আইনি ভিত্তি অনুমোদন করতে পারে। কারণ, এর মাধ্যমে অভিযুক্তদের দায়মুক্তি দেওয়া হলে ১৪০০ প্রাণহানি ও আহতদের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রাখা সম্ভব।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য জারি করা অধ্যাদেশ ও সংশ্লিষ্ট জুলাই সনদের বাস্তবায়নেও বিএনপি এখনও অনেকটা দ্বিধাগ্রস্ত বলেই মনে করছে বিরোধীরা। যদিও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হয়েছে, সরকারের কাছে এখনও প্রশ্ন, এই অধ্যাদেশকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া কতটা প্রয়োজন।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, গণভোট ও জুলাই আন্দোলনের ‘স্পিরিট’ বিবেচনায় বিএনপিকে কিছুটা সহমত দেখাতে হতে পারে।
সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার অধ্যাদেশে বিএনপির আপত্তি নেই। তবে তরুণদের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় দিন দিন সরকারের জন্য নীতি নির্ধারণ জটিল হয়ে উঠেছে।
যদিও সাংবিধানিকভাবে জারি করা প্রত্যেকটি অধ্যাদেশই সংসদে বিল আকারে পেশ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বিল আকারে পেশ করা হবে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ এখন শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার ওপর নির্ভর করছে। বিএনপি সরকার নির্বাচনী ও মানবিক প্রেক্ষাপট, সংবিধানিক সীমাবদ্ধতা এবং রাজনৈতিক ফলাফল বিবেচনা করে অধ্যাদেশগুলোর আইনি ভিত্তি দেবে। বাকি অধ্যাদেশের অধীনে পূর্বে করা কর্মকাণ্ডের বৈধতা হারাবে, যা ভবিষ্যতে আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!