গুলিস্তানের অন্যতম প্রধান মার্কেট
গুলিস্তানের অন্যতম প্রধান মার্কেট   ছবি: সংগৃহীত

নগর প্লাজায় গত বৃহস্পতিবার ১৬ লক্ষ টাকা লুট ও মার্কেট দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে! মার্কেট সূত্রে জানা যায় বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে বারোটার দিকে ৭০/৮০ জনের একটা বহিরাগত গ্রুপ হঠাৎ করেই মার্কেটে প্রবেশ করে সমিতির অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এবং ব্যবসায়ীদের বিদ্যুৎ বিলের জন্য রাখা ১৬ লক্ষ ক্যাশ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। 

এ সময় বাধা দিতে গেলে সমিতির সভাপতিসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হয়।জানতে চাইলে নগর প্লাজা মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন সুমন সংবাদমাধ্যম আরটিএনএনকে বলেন বিলুপ্ত হওয়া আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দোসরা পুনরায় একত্রিত হয়ে বৃহস্পতিবার আমাদের ব্যবসায়ীদের বৈধ কমিটির উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১৬ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। 

তবে আমরা ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা পিছু হটে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এই হামলা ও টাকা লুটের বিষয়ে বংশাল থানায় আমরা একটি অভিযোগ দায়ের করি। 
সুমন আরো বলেন বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব মার্কেটের সিনিয়র ব্যবসায়ীরা নেওয়ায় তাছাড়া ঈদ কেন্দ্রিক সামনে ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা চিন্তা করেই আপাতত মামলা দায়ের করা হয়নি।

সুমন দাবি করেন এই অপরাধী সিন্ডিকেট অতীতে দায়িত্ব নিয়ে পুরো মার্কেটটা জাহান্নামে পরিণত করেছিলেন। অতীতের সেই নৈরাজ্য-জুলুমকে স্মরণ করে মার্কেটের বর্তমান ব্যবসায়ীরা কোনভাবেই তাদেরকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।

উল্লেখ্য, পালিয়ে যাওয়ার আগে পলাতক ফ্যাসিস্ট কমিটি ২৯ লাখ টাকা পানির বিল ও ২০ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বাকি রেখে গিয়েছিল। তবে রুলিং পার্টির কারো পরোক্ষ প্ররোচনায় পলাতক ফ্যাসিস্টরা পুনরায় মার্কেট দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সুমন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম মাহফুজুল হক আরটিএনএন কে বলেন গুলিস্তান নগর প্লাজায় হামলার একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে আমরা ফোর্স পাঠিয়েছি। বিষয়টি সমঝোতা করার জন্য মার্কেটের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দায়িত্ব নিয়েছেন। 

হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোন পদক্ষেপ নিতে পারিনা।

জানা গেছে পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পাল্টে গেছে সিন্ডিকেট। পুরোনোদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অধিকাংশ মার্কেটের দখল এখন বিএনপি নেতাদের নিয়ন্ত্রণে।তাদের মধ্যে অন্যতম ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ও ট্রেড সেন্টারের উত্তরের সভাপতি মোজাম্মেল হক মজু। তাঁর সঙ্গে গোপনে কাজ করে যাচ্ছেন পলাতক ফ্যাসিস্ট এমনটাই অভিযোগ এসেছে। 

ব্যবসায়ীরা জানান, গুলিস্তান হকার্স মার্কেট (ঢাকা ট্রেড সেন্টার উত্তর), বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেট (ঢাকা ট্রেড সেন্টার দক্ষিণ মার্কেট), নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা ও জাকের সুপারমার্কেটে দোকান বরাদ্দের মাধ্যমে নতুন সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। তারা এসব মার্কেটের কাগজপত্র জালিয়াতি করে ভুয়া ছবি ও পরিচয়পত্রের মাধ্যমে দোকান বরাদ্দ দিয়ে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া সরকারি মার্কেটে প্রভাব খাটিয়ে নকশাবহির্ভূতভাবে শত শত দোকান বানিয়ে বিক্রি করা হয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পতিত স্বৈরাচার সরকারের আমলের অনিয়ম-দুর্নীতিতে সিদ্ধহস্ত অনেকেই এখন বিএনপিকে ব্যবহার করে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন ছোট-বড় ১৫টি মার্কেট রয়েছে। নানা অজুহাতে এসব মার্কেট থেকে প্রতি মাসে চাঁদা ওঠে কোটি কোটি টাকা। নকশা ভেঙে আর জালিয়াতি করে দোকানও বরাদ্দ দেয় সিন্ডিকেট। করপোরেশনের মার্কেটের নামকাওয়াস্তে ভাড়া রাজস্বে জমা হলেও বড় অংশই যায় সিন্ডিকেটের পকেটে। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও গুলিস্তানের মার্কেটগুলোর সিন্ডিকেট পরিবর্তন হয়নি। এক গ্রুপ সরে যাওয়ার পর তার দখল নিয়েছে আরেক গ্রুপ।

গুলিস্তানের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি আফজাল হোসেন এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীকে নিয়ে মার্কেটগুলোয় সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। গুলিস্তানকেন্দ্রিক সরকারি এসব মার্কেটে তাদের হয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে দোকান বাণিজ্য বাস্তবায়ন করেছিলেন দেলোয়ার হোসেন দেলু, নাজমুল হুদা, মোজাম্মেল হক মজু, হুমায়ুন কবির মোল্লা ও জহিরুল ইসলাম সিন্ডিকেট। তাদের সবাই আওয়ামী লীগ আমলে মার্কেট মালিক সমিতির শীর্ষ পদে ছিলেন। মেয়র, কাউন্সিলর ও রাজনৈতিক নেতা সবার মধ্যে ভাগবাটোয়ারা সমন্বয় করতেন জাকের মার্কেটের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু। তাঁর বিরুদ্ধে মার্কেট থেকে শতকোটি টাকা লোপাটে দুদকেও অভিযোগ রয়েছে। বাকিদের মধ্যে ট্রেড সেন্টারের উত্তরের সভাপতি ছিলেন মোজাম্মেল হক মজু ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান।