ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচলে ছয় দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
বৃহস্পতিবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদযাত্রায় মানুষের যাতায়াত সহজ করতে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল দ্রব্য, পোশাকসামগ্রী, ওষুধ, সার এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।
এ ছাড়া ১৬ মার্চ থেকে ঈদযাত্রা–সংশ্লিষ্ট যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মহানগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এড়িয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি। এসব সড়কের মধ্যে রয়েছে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের কুড়িল থেকে আবদুল্লাহপুর অংশ, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুলিস্তান থেকে সাইনবোর্ড অংশ, ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক বা মিরপুর রোডের আড়ং ক্রসিং থেকে আমিনবাজার অংশ এবং ঢাকা–কেরানীগঞ্জ সড়কের ফুলবাড়িয়া থেকে তাঁতিবাজার হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ অংশ।
এ ছাড়া ঢাকা–মাওয়া মহাসড়কের গুলিস্তান থেকে বুড়িগঙ্গা ব্রিজ অংশ, মোহাম্মদপুর বছিলা ক্রসিং থেকে বছিলা ব্রিজ, আবদুল্লাহপুর থেকে ধউর ব্রিজ এবং ফুলবাড়িয়া থেকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সড়ক এই তালিকায় রয়েছে।
গণপরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের জন্যও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তজেলা বাসগুলোকে টার্মিনালের ভেতর থেকে যাত্রী উঠিয়ে সরাসরি গন্তব্যে যেতে হবে। কোনো অবস্থাতেই টার্মিনালের বাইরে প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করানো যাবে না। অনুমোদিত বাস কাউন্টার বা স্টপেজ ছাড়া মাঝপথে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো–নামানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোতে কোনো ধরনের বাস পার্কিং করা যাবে না।
সরকারি বাসসংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) পরিচালিত বাসগুলোর ক্ষেত্রেও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ডিপো থেকে বের হয়ে বাসগুলো সরাসরি নির্ধারিত জেলার উদ্দেশে যাত্রা করবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়তে হবে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করা যাবে না। যাত্রীদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার বা হয়রানি করা যাবে না। একই সিটের টিকিট একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বাসের সিটের অতিরিক্ত যাত্রী বহন বা বাসের ছাদে যাত্রী ওঠানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিরাপদ ড্রাইভ নিশ্চিত করতে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে গাড়ি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। বিশেষ করে ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বাঁক ও সরু সেতুতে ওভারটেকিং করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া কোনো যানবাহন চালানো যাবে না। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাসে উচ্চস্বরে গান বাজানো এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানো যাবে না বলেও জানানো হয়েছে। মালিকপক্ষ চালকদের একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি এবং দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করতে পারবেন না। ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত বা কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী জরাজীর্ণ যানবাহন সড়কে নামানো যাবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
যাত্রী ও পথচারীদের জন্য নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সড়কের যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে না উঠে নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টার থেকে বাসে উঠতে হবে। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে এবং ভ্রমণকালে নিজের মালামাল সাবধানে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যাত্রার নির্ধারিত সময়ের আগেই টার্মিনালে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। রাস্তা পারাপারের সময় ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস বা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করা কিংবা পণ্যবাহী মোটরযানে যাত্রী হওয়া নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ডিএমপির এই নির্দেশনাগুলো পালনে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিক, চালক ও নগরবাসীর পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!