জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ঈদুল ফিতর
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।   ফাইল ছবি

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর—মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই কয়েকটি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের ছুটির আগেই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সরকার গঠনের পর মাঠ প্রশাসনকে গতিশীল করা, নীতিনির্ধারণ বাস্তবায়নে গতি আনা এবং কেন্দ্র ও জেলার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার লক্ষ্যেই এই রদবদলকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনিক সূত্র বলছে, এটি হতে যাচ্ছে নতুন সরকারের প্রথম বড় ধরনের মাঠ প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের আলোচনা শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১ মার্চ পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হয়। প্রত্যাহার হওয়া জেলাগুলো হলো—গাজীপুর, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া, নেত্রকোনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আপাতত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রাখা হয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন গাজীপুরের মোহাম্মদ আলম হোসেন, পঞ্চগড়ের কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, কুষ্টিয়ার মো. ইকবাল হোসেন, নেত্রকোনার মো. সাইফুর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ। এ কর্মকর্তারা গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নিজ নিজ জেলায় যোগদান করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের প্রত্যাহার করায় প্রশাসনিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু এই পাঁচ জেলা নয়, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের একটি তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং সরকারের নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্যই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিগগিরই নতুন মুখ জেলা প্রশাসনে দায়িত্ব নেবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি মাঠ প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু। জেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ভূমি প্রশাসন পরিচালনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয়—সবকিছুর সঙ্গেই সরাসরি যুক্ত থাকেন জেলা প্রশাসকরা। ফলে এই পদে পরিবর্তন সরকারের প্রশাসনিক অগ্রাধিকার ও নীতির প্রতিফলন ঘটায়।

এ প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের এই উদ্যোগকে প্রশাসনে নতুন গতি সঞ্চারের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকার গঠনের পরপরই মাঠ প্রশাসনে এই ধরনের রদবদল কেন্দ্রের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে ঈদের আগেই জেলা প্রশাসক বদলির সম্ভাব্য প্রজ্ঞাপনকে নতুন সরকারের প্রশাসনিক পুনর্গঠনের সূচনা হিসেবে দেখছেন প্রশাসন বিশ্লেষকরা। এটি ভবিষ্যতে মাঠ প্রশাসনে আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিতে পারে।