ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীসহ সারাদেশে ছিনতাইকারী, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, জাল নোট সিন্ডিকেট, লাগেজ পার্টি, গণ্ডগোল পার্টিসহ বিভিন্ন প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। শহরের শপিংমল, টার্মিনাল ও ব্যাংকের আশেপাশে নানা ছদ্মবেশে এই চক্র এখন বেপরোয়া। এ ছাড়া অনলাইনেও সক্রিয় কিছু অপরাধ চক্র।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ পদক্ষেপ, নানা সতর্কতা ও নজরদারির মধ্যেও সক্রিয় এই অপরাধ চক্র। জানা গেছে, অনলাইন প্রতারণাসহ হরেক রকম নিত্যনতুন অভিনব প্রতারণায় নিয়োজিত রয়েছে চক্রগুলো।
ইতোমধ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মহাসড়ক, রেল, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, সাদা পোশাকে নজরদারি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অবশ্য রমজানের শুরু থেকেই সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ পর্যন্ত কয়েক হাজার অপরাধীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এরপরও বিভিন্ন এলাকায় চলছে ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ একাধিক সূত্র জানায়, ছিনতাইয়ে জড়িতদের বেশির ভাগই কিশোর, তরুণ ও নানা শ্রেণির গাড়িচালক। এ ছাড়া অন্য পেশার লোকজনও ঈদকে সামনে রেখে এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
জানা গেছে, মলম পার্টির সদস্যরা জনাকীর্ণ বাস বা ভিড়ের মধ্যে মানুষের চোখে মরিচের গুঁড়ো বা বিষাক্ত মলম লাগিয়ে দেয়। এতে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে মোবাইল, মানিব্যাগ বা ঘড়ি ছিনিয়ে নেয় তারা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অচেতন হওয়া রোগীরা এই হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে ঈদের বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ বাড়ার সুযোগ নিচ্ছে জালনোট চক্রও। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, উন্নত স্ক্যানার ও প্রিন্টার ব্যবহার করে জাল টাকা তৈরি করে বাজারে ছাড়ছে একটি চক্র। এ ছাড়া অনলাইনে বাসের টিকিট বা কেনাকাটার নামে প্রতারণার ঘটনাও বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অফার দিয়ে অগ্রিম টাকা হাতিয়ে নেওয়া কিংবা ওটিপি সংগ্রহ করে ব্যাংক হিসাব খালি করে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। শহরে ঈদকেন্দ্রিক মৌসুমি অপরাধ চক্রের পাশাপাশি থেমে নেই গুরুত্বর অপরাধী সন্ত্রাসী চক্র।
গত রোববার রাতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রাকিব আহমেদ নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া রাজধানীর উত্তরায় একজন রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
রাজধানীর অন্যতম ক্রাইম জোন মোহাম্মদপুর এলাকায় সম্প্রতি তারাবির নামাজ শেষে হাটতে বের হয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত-২) মো. মোতাহার হোসেন। দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে তার কাছ থেকে দুটি আইফোন, মানিব্যাগ ও একটি দামি ঘড়ি ছিনিয়ে নেয়। হামলায় তিনি আহতও হন। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হলে পুলিশ দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে এবং মোবাইল ফোন দুটি উদ্ধার করে।
গত রোববার শহরের সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফের আই ফোনটি নিয়ে যায় একটি চক্র। এ বিষয়ে তিনি শাহবাগ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর আশপাশের জেলা ও সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে কয়েকশ’ অপরাধী ইতোমধ্যে ঢাকায় এসে অবস্থান নিয়েছে। অপরাধবিজ্ঞানের ভাষায় এদের ‘মৌসুমি অপরাধী’ বলা হয়। সারা বছর গ্রামাঞ্চলে ছোটখাটো পেশায় যুক্ত থাকলেও ঈদের সময়টাকে তারা ‘উপার্জনের মৌসুম’ হিসেবে বেছে নেয়। বড় অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাগ হয়ে যায়।
জানা গেছে, রাজধানীর গুলিস্তান, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার বাজার এবং শপিংমলগুলোতেও সক্রিয় হয়ে উঠেছে পকেটমার সিন্ডিকেট। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সারাদেশে ছিনতাই ও দস্যুতার ঘটনায় ১৬৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে ২৯টি এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৪২টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে এ ধরনের ঘটনায় আরও ১৩৭টি মামলা হয়েছে। আর গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানায় ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৩০৮টি অভিযোগ জমা পড়ে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শহরের ৮টি ক্রাইম জোনে ৪৩২টি হটস্পট রয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৯৭৯ জন ছিনতাইকারী সক্রিয় বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগে ৩৮৬ জন, মতিঝিল ও ওয়ারী বিভাগে ২১২ জন, রমনা ও লালবাগ বিভাগে ২১৭ জন এবং উত্তরা ও গুলশান বিভাগে ১৫৪ জন সক্রিয় রয়েছে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শপিংমল, বাস টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত টহল বাড়ানো হয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতা দেখলে নাগরিকদের দ্রুত জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে জানাতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার সংবাদমাধ্যম আরটিএনএনকে বলেন, রাজধানীকে নিরাপদ রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!