কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মো. রফিকুল ইসলাম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
মৃত্যুর পর বাদ আসর রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
রফিকুল ইসলামের মৃত্যুতে ভৈরবসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি ভৈরব পৌর শহরের ভৈরবপুরে রমজান আলী মিয়ারের বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম সক্রিয়ভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদানও অসামান্য। ১৯৮৭ সালে নিজের দুই একর জমির ওপর রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর আগে ১৯৮২ সালে তিনি ফাতেমা রমজান প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও ‘হালিমা সাদিয়া মাদরাসা’ নামে একটি মহিলা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন। ভৈরবের একাধিক প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদরাসার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ অবদান ছিল।
রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘ভৈরবসহ পার্শ্ববর্তী জেলার নারী শিক্ষার অগ্রদূত ছিলেন তিনি। একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাব্রতী ও সমাজসংস্কারক ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।’

এ দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলামের মৃত্যুতে জামায়াত আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, যুগ-যুগ ধরে তা মানুষের উপকারে আসবে। তার এই উদ্যোগ সমাজের অন্যান্য লোকদেরকে কল্যাণকর কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের মৃত্যুতে শিক্ষাঙ্গন ও মুক্তিযুদ্ধ সমর্থক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, এবং তার অবদান দীর্ঘকাল মানুষের কল্যাণে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!