সাবেক ডিজিএফআই পরিচালক, আফজাল নাছের,গ্রেফতার
সাবেক ডিজিএফআই পরিচালক মো. আফজাল নাছের গ্রেফতার।   ছবি: সংগৃহীত

ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে ডিবি রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএস-এর ১২ নম্বর রোডের ৮৬৪ নম্বর বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

ডিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র  নিশ্চিত করেছে গ্রেফতারের তথ্য, তবে এখনও জানা যায়নি কোন মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে একই সময়ে এক-এগারো সরকারের সময় বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকেও ডিবি গ্রেফতার করে এবং তারা বর্তমানে ডিবির কাছে রিমান্ডে রয়েছেন।

তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আফজাল নাছেরকে আটক করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম  বলেন, ‘আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তাদের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আছে, তা বিচার বিশ্লেষণ করছি। এটা তদন্তের বিষয়।’
 
গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, এক-এগারোর আগে তত্ত্বাবধায় সরকারের প্রধান ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে চাপ দিয়েছিলেন মাসুদসহ ৬ সেনা কর্মকর্তা। বাকিদের বিষেয়েও খোঁজ নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, সেই সময় গ্রেফতার-নির্যাতন, দুর্নীতি, জিম্মি করে অর্থ আদায়সহ নানা অভিযোগ জানাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়ার আহ্বান পুলিশের।
 
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই যোগাযোগ করছেন। আমরা বলেছি, আপনারা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন, আইনগত ব্যবস্থা আমরা নেব।’  

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে হেনস্তা ও জোরপূর্বক ভিডিও ধারণের অভিযোগ রয়েছে আফজাল নাছেরের বিরুদ্ধে। এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ভাইরাল হওয়া ভিডিও ধারণের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ী মোসাদ্দেক আলী ফালুর ওপর নির্যাতনের ঘটনাতেও তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মো. আফজাল নাছের ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআই-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এক-এগারো সরকারের সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্যাতনের ঘটনায় তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এই সময় তারেক রহমানকে নির্যাতনের স্থলে তিনি সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, কর্নেল আফজাল নাছেরকে ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর সেনা বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে এবং তিনি ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন।