পর্যটন মেলায় মালয়েশিয়ার প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করলেন দেশটির হাইকমিশনার।
পর্যটন মেলায় মালয়েশিয়ার প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করলেন দেশটির হাইকমিশনার।   ছবি: আরটিএনএন

ঢাকা ট্রাভেল মার্ট ২০২৬ (ডিটিএম ২০২৬)-এ  ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ (VM2026) দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা বিন ওসমান।

এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ (VM2026) প্রচারণা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পর্যটন খাত ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রতি মালয়েশিয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।

ডিটিএম ২০২৬-এ মালয়েশিয়ার ১৭টি প্রতিষ্ঠানের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল প্রোমোশন ডিভিশন (এশিয়া ও আফ্রিকা)-এর উপপরিচালক সোলেহুদ্দিন আহমদ।

প্রতিনিধিদলে মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিল (MHTC), এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেস (EMGS) এবং বিভিন্ন ট্যুর অপারেটর ও এয়ারলাইনসসহ গুরুত্বপূর্ণ ট্রাভেল ট্রেড অংশীদাররা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

ঢাকায় ৯ থেকে ১১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই তিনদিনের মেলায় ব্যবসায়িক অংশীদার ও ভোক্তাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।

বর্তমান ভ্রমণ প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মালয়েশিয়া তাদের পর্যটন সেবা বহুমুখীকরণে গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য আরও অর্থবহ ও বিশেষায়িত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা যায়।

এ বছরের স্বাস্থ্যভিত্তিক পর্যটনের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে ‘মালয়েশিয়া ইয়ার অব মেডিক্যাল ট্যুরিজম’ ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশটিকে উন্নতমানের এবং সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবার অন্যতম গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হবে।

আধুনিক হাসপাতাল, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এবং দক্ষ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মালয়েশিয়া দ্রুতই একটি নির্ভরযোগ্য মেডিক্যাল ট্যুরিজম হাব হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের এসব উন্নত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যেখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি রোগীকেন্দ্রিক মানবিক সেবা নিশ্চিত করা হয়।

এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশি রোগীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অনুষ্ঠানে ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার, যেখানে ভ্রমণকারীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাও শক্তিশালী।

ডিটিএম ২০২৬-এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে মালয়েশিয়া তাদের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করা, নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ প্রচারণাকে গতিশীল করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।