জামায়াত নেতা
শেরপুরে প্রকাশ্যে জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমকে হত্যা করা হয়।   ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরে নির্বাচনী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা রেজাউল করিমকে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এবি পার্টি। একই সঙ্গে ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে দল দুটি।

বুধবার শেরপুর-৩ আসনের শ্রীবরদী উপজেলায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক মাওলানা রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই) বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে এক বিবৃতিতে বলেন, চেয়ারে বসার মতো তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে সহিংসতা এবং একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ ধরনের ঘটনা জাতিকে হতাশ করেছে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও দায়িত্বশীল ও সতর্ক ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি মাওলানা রেজাউল করিমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির আরও বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো অবহেলা বা শিথিলতা থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

এদিকে একই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবি পার্টি। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, শেরপুরে জামায়াত নেতাকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক সন্ত্রাস এবং নির্বাচনী সহিংসতার ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ।

এবি পার্টির নেতারা অভিযোগ করেন, ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি সমর্থকেরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সংঘর্ষে জড়ায়। পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মাওলানা রেজাউল করিমসহ অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হন এবং প্রায় অর্ধশত মানুষ আহত হন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই হত্যাকাণ্ড নির্বাচনী পরিবেশ ধ্বংস এবং বিরোধী মত দমনের উদ্দেশ্যেই সংঘটিত হয়েছে। এতে প্রমাণ হয়, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই এবং প্রশাসনের নীরবতা অপরাধীদের সাহস জোগাচ্ছে।

এবি পার্টির নেতারা এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার, জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তাঁরা। রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ না হলে এর দায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন এড়াতে পারবে না বলেও সতর্ক করেন দলটির নেতারা।

শেরপুরের এই ঘটনা জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠে সহিংসতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। 

পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর সংযম এবং প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।