তারেক রহমান, বিএনপি, ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত
তারেক রহমান (বামে) এবং ডা. শফিকুর রহমান (ডানে)।   ছবি: আরটিএনএন

সন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ি ও সহিংসতার বদলে ‘আইডিয়ার লড়াই’ নিয়ে তারেক রহমানকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। দেশের মানুষের জন্য সবচেয়ে কার্যকর নীতিমালা কী হতে পারে—এই প্রশ্নে সম্প্রতি সকল রাজনৈতিক দলকে মিলিত হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

শফিকের এই আহ্বানকে সমর্থন জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। ডাকসু এই বিতর্ক আয়োজন করতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছেন ভিপি সাদিক।

ডা. শফিক নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ২৪ মিনিটে লিখেছেন, ‘আমি আমার প্রতিপক্ষদের স্বাগত জানাই। আসুন, ভাবনার লড়াইয়ে প্রতিযোগিতা করি—কে এই দেশের মানুষের সেবা আরও ভালোভাবে করতে পারে, তা প্রমাণ করার জন্য।’

শফিকের পোস্টে আরও উল্লেখ রয়েছে, ‘নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক করি, মানুষের কথা শুনি এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য সর্বোত্তম নীতিমালা প্রণয়ন করি। জামায়াত প্রতিদিনের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আলোচনা ও মানুষের কথা শোনার একটি ভিন্ন ধারা তুলে ধরছে।’

তিনি সহিংসতার বিপরীতে কল্যাণমুখী রাজনীতির কথাও তুলে ধরেছেন, ‘মানুষ অতীতেও সহিংসতা প্রত্যাখ্যান করেছে, এখনো করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।’

শফিকের এই আহ্বানকে সমর্থন জানান ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, যিনি মন্তব্য করেন, ‘ডাকসু এটি (বিতর্ক) আয়োজন করতে আগ্রহী।’ তবে বিতর্কের কাঠামো, ফরম্যাট বা আয়োজনের বিস্তারিত কি হবে সেই বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।

এক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন হলো—বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আহ্বানে সাড়া দেবেন কি না। নির্বাচনী প্রচারণার ব্যস্ততার মধ্যে তারেক রহমানের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি তারেক রহমান এ বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন, তবে এটি হবে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন ভাবনার লড়াইয়ের এক দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন।

যদিও আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের পরিস্থিতি দিনি দিন আরও জটিল হচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রার্থীরা এখন প্রচারণায় ব্যস্ত, এবং প্রতিটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ভোটের ফলাফলের প্রভাব ফেলবে। এই প্রেক্ষাপটে শফিকের বিতর্কের আহ্বান কেবল একটি নৈতিক ও নীতিমালাভিত্তিক পরীক্ষাই নয়, এটি হতে পারে ভোটারদের সামনে রাজনৈতিক দলগুলোর দক্ষতা ও পরিকল্পনার একটি জনপরীক্ষা।

একদিকে দাঁড়িয়ে আছে জামায়াতের আহ্বান, অন্যদিকে অপেক্ষা করছে বিএনপির প্রতিক্রিয়া। দেশের মানুষ কি এই বিতর্কের মাধ্যমে প্রার্থীদের নীতিমালার তুলনা করতে পারবে? সময়ই তার উত্তর দেবে।

এমকে/আরটিএনএন