জামায়াত
মিডিয়া ট্রায়ালের প্রতীক ছবি।   প্রতীকী ছবি

জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকতে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমীরের ব্যক্তিগত অর্থ বহনকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সকাল থেকে অন্তত দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বিষয়টি লাইভ সম্প্রচার করে, যেখানে অর্থ বহনের বৈধতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলা হয়।

তবে দিন শেষে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বহন করা অর্থটি ব্যক্তিগত এবং এর জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনাপত্তিপত্র (NOC) নেওয়া হয়েছিল।

কাস্টমসের অনাপত্তিপত্রের ভিত্তিতেই ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমীরকে ঢাকা পর্যন্ত অর্থ বহনের অনুমতি দেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ম অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কাস্টমসের অনাপত্তিপত্র নিয়েই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অর্থ বহন করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক রুটে বৈদেশিক মুদ্রা বহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা ও ঘোষণার বিধান থাকলেও দেশের অভ্যন্তরে বৈধ উৎসের নগদ অর্থ বহনের ওপর সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে অর্থের উৎস ও ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনগতভাবে জবাবদিহি করতে হতে পারে, বিশেষ করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন প্রযোজ্য হলে।

মিডিয়া ট্রায়াল

ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন টকশোতে বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ নেয়। জামায়াতের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে পরিকল্পিতভাবে দলটির রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই ইস্যু ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা বলছেন, বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করাকে সাধারণত ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ বলা হয়। এ ধরনের প্রবণতা জনমত প্রভাবিত করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে।

অতীতের নজির

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনপূর্ব সময়ে এ ধরনের বিতর্ক নতুন নয়। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময়ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিতর্ক তৈরি হয়েছিল—যা নিয়ে এখনও আলোচনা চলে।

স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা

সুশাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা বিভ্রান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমেরও দায়িত্বশীলতা ও তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।