ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যবেক্ষণ মিশন বিশ্বাসযোগ্য ও দক্ষভাবে পরিচালিত উল্লেখ করেছে। তবে নারী প্রার্থীর স্বল্পতা, স্থানীয় সহিংসতা, অনলাইন বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা এবং কিছু প্রক্রিয়াগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেন, ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো এই নির্বাচন ছিল সত্যিকারের প্রতিযোগিতামূলক। নবায়নকৃত আইনি কাঠামোর অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।
তিনি বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে কিছু রাজনৈতিক সহিংসতা এবং অনলাইন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে। নারীদের জন্য সীমিত রাজনৈতিক সুযোগ অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করেছে।’
ইজাবস বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করেছে এবং অংশগ্রহণকারীদের আস্থা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে আইনি নিশ্চয়তা ও জবাবদিহিতা আরও বাড়ানো দরকার।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ভোটের প্রস্তুতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। বিদেশে থাকা প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি নির্বাচনকর্মী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। তবে বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র প্রতিবন্ধী ও সীমিত চলাচলক্ষম ভোটারের জন্য সহজে পৌঁছার উপযোগী ছিল না।
ভোট গণনা ও ফল সংকলন মোটামুটি দক্ষভাবে হয়েছে। দলীয় এজেন্টদের উপস্থিতি ও নিয়মিত ফল প্রকাশ জনআস্থা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। নির্বাচনী প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ৬০০-এর বেশি আপিল নিষ্পত্তি এবং দুই-তৃতীয়াংশ প্রার্থী পুনর্বহাল হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে।
ইজাবস বলেন, দুই হাজারের বেশি প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় ভোটারদের বিস্তৃত রাজনৈতিক বিকল্প মিলেছে। প্রচারণা প্রাণবন্ত ছিল, প্রার্থীরা সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভোগ করেছেন। তবে শেষ সময়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পারস্পরিক অভিযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নারীর অংশগ্রহণ খুবই কম ছিল—মাত্র ৪ শতাংশ প্রার্থী নারী। পিতৃতন্ত্র, বৈষম্য, অনলাইন হয়রানি ও চরিত্রহনন নারীদের বাধাগ্রস্ত করেছে। আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বও সীমিত।
ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে অন্তত ৫৬টি সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এতে শতাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে, নারী প্রচারকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও সম্পত্তিতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
অনলাইন প্রচারণায় বিভ্রান্তিমূলক তথ্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তত ৩০টি ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লাখ লাখ ভিউ পেয়েছে। ফ্যাক্ট-চেকিং উদ্যোগ সক্রিয় হলেও প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতিক্রিয়া ধীর ছিল।
গণমাধ্যম বিষয়ে বলা হয়, কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভারসাম্যপূর্ণ কাভারেজ দিয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যম সংস্কার অসম্পূর্ণ এবং বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনের পরিসর সীমিত।
নাগরিক সমাজের ভূমিকার প্রশংসা করে ইজাবস বলেন, ৮১টি নাগরিক পর্যবেক্ষক দল নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে এবং তরুণ কর্মীরা দেশজুড়ে ভোটার শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে গণতান্ত্রিক চর্চায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
সবমিলিয়ে, ইইউ পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক ও বিশ্বাসযোগ্য হলেও কিছু সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ আছে, যা ভবিষ্যতের জন্য সমাধান করা প্রয়োজন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!