গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে শিবিরের বিক্ষোভ 
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।   ছবি: আরটিএনএন

গণভোটের মাধ্যমে পাওয়া জনরায়ের বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসির প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখা। 

আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব এসে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে  মিছিল টি শেষ হয়।

মিছিল অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

সমাবেশে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সাম্পাদক সাইদুল ইসলাম বলেন, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনা দেশের ইতিহাসে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় এখনো বিচারহীনতার সংস্কৃতি বহাল রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যে ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেই জনগণের প্রত্যাশা ও রায়ের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিচ্ছে। বিশেষ করে গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের অবস্থানকে তারা জনগণের ম্যান্ডেটের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী অনেক নেতা সাধারণ মানুষের বক্তব্যের বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছেন। কেউ কেউ এসব অবস্থানের প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছেন, আবার কেউ নীরব থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

আরেক কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুল ইসলাম বলেন, “জনগণের রায় উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার ভিন্ন পথে হাঁটার চেষ্টা করছে, যা দেশের মানুষ ইতোমধ্যেই বুঝতে শুরু করেছে।”

তিনি দাবি করেন, বিগত ১৭ বছরে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার না হয়ে বরং অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হচ্ছে।

সমাবেশে তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই বাংলাদেশে কোনো স্বৈরাচারী আচরণ মেনে নেওয়া হবে না। ছাত্রসমাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকবে।”

আমিরুল  দাবিগুলো তুলে ধরে বলেন—যেসব প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করতে হবে এবং আগামী জুলাইয়ের মধ্যেই তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তারা।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি আসিফ আবদুল্লাহ। 
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “নির্বাচনের আগে ও পরে সরকারের বক্তব্যে কোনো মিল নেই। তাদের ঘোষিত ৩১ দফার প্রথম দফা ছিল সংবিধান সংস্কার, অথচ এখন তারা বলছে এটি সম্ভব নয়। একইভাবে দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টিও তারা অস্বীকার করছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার সব ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে কেন্দ্রীভূত করতে চায়, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি।

মহানগর সেক্রেটারি ইমদাদুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে মহানগরীর অন্যান্য নেতা কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। 

সমাবেশ শেষে নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংসদে দাবি আদায় না হলে রাজপথেই আন্দোলনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।