আল্লাহ তা’আলা কি পর্দার বিধান মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন? পর্দা ফরজ কেন? পর্দা কি শুধু মেয়েদের জন্যই? পর্দা না করলে কী হবে? পর্দা বিষয়টি আসলে কী? অনেক প্রশ্ন। পর্দা কিভাবে করবো, কতটুকু করব, কখন করব- বিষয়গুলো পর্দা পালনে ইচ্ছুক অনেক নারীও সঠিকভাবে অবগত নয়। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল। তাদের ধর্মে পর্দার বিধান আছে কিনা, এটাও জানে না বেশিরবাগ সাধারণ ধর্মানুসারী। পর্দার এ ব্যাপার সবার জানা আবশ্যক, তবে একজন মুসলিমের জানা অত্যাবশ্যক।
পর্দা কী ও কেন?
পর্দা হলো একটি ইসলামিক ও সামাজিক বিধান, যা মূলত শালীনতা রক্ষা এবং নারী-পুরুষের মধ্যে নির্দিষ্ট সীমানা বজায় রাখার মাধ্যম। শুধু ইসলাম নয় অন্যান্য ধর্মেও পর্দার বিধান রয়েছে। সামাজিক অবক্ষয় রোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখে পর্দা। প্রশাসন ও সরকার পক্ষ তাদের কাজ করার পাশাপাশি নাগরিকদেরও কিছু দায়িত্ব থাকে, যেগুলো ব্যাক্তি পর্যায় থেকে পালিত না হলে একটি রাষ্ট্র, একটি সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয় না।
ইসলাম পর্দা সম্পর্কে কী বলে:
ইসলাম পর্দাকে ফরয (আবশ্যক) করেছে। পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন সময় পর্দা ও শালীনতা সম্পর্কে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে বেশ কিছু আয়াত নাজিল হয়েছে।
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ
"মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হিফাযত করে; এটাই তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। তারা যা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত।" (সূরা নূর, আয়াত-৩০)।
আল্লাহ সর্ব প্রথম মুমিনদেরকে তাদের নজর হেফাযত করার কথা বলেছেন। এই বিষয়ে জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ রা: থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ نَظَرِ الْفُجَاءَةِ فَأَمَرَنِي أَنْ أَصْرِفَ بَصَرِي
"আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে আমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিতে নির্দেশ দিলেন।" (সহীহ মুসলিম- ২১৫৯)।
সহিহ বোখারি (হাদিস নং ৬২৪৩) ও সহিহ মুসলিমের (হাদিস নং ২৬৫৭) হাদিসে বলা হয়েছে, চোখের ব্যভিচার হলো (নিষিদ্ধ দিকে) তাকানো, কানের ব্যভিচার শ্রবণ করা, জিহ্বার ব্যভিচার কথা বলা, হাতের ব্যভিচার স্পর্শ করা এবং পায়ের ব্যভিচার সেদিকে হেঁটে যাওয়া। মন তা কামনা করে এবং লজ্জাস্থান তা সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করে।
তাফসীরে ইববে কাসীরে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা দৃষ্টিকে নিম্নগামী করার নির্দেশ দিয়েছেন কারণ দৃষ্টি হলো অন্তরের প্রবেশদ্বার। যদি দৃষ্টি অবারিত থাকে, তবে তা অন্তরে কুমন্ত্রণা সৃষ্টি করে। তিনি আরও বলেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে তার দৃষ্টিকে সংবরণ করে, আল্লাহ তার ঈমানি নূর বাড়িয়ে দেন।" অর্থাৎ আল্লাহ প্রথমে দৃষ্টি সংবরণ করতে বলার কারণ হলো, সকল ব্যাভিচার ও অশালীনতার শুরু দৃষ্টিপাত থেকে শুরু হয়। কাজেই একজন মুসলিমের প্রথম কাজ দৃষ্টি সংবরণ করা।
আল্লাহ তা’আলা সূরা নূরে আরো বলেন, وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ...
"আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে টেনে দেয়..." (সূরা নূর, আয়াত- ৩০)।
যিনাব বিনতে আবু সালামাহ থেকে বর্ণিত, আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) পাতলা কাপড় পরে রাসূল (সা.)-এর সামনে আসলেন। রাসূল (সা.) মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন: يَا أَسْمَاءُ إِنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا بَلَغَتِ الْمَحِيضَ لَمْ تَصْلُحْ أَنْ يُرَى مِنْهَا إِلاَّ هَذَا وَهَذَا (হে আসমা! নারী যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তখন তার শরীর থেকে এই এবং এই অংশ ছাড়া অন্য কিছু দেখা যাওয়া জায়েজ নয়)। এরপর তিনি তার চেহারা ও হাতের কব্জির দিকে ইশারা করলেন। (সুনানে আবু দাউদ-৪১০৪)। অন্য একটি হাদীসে এসেছে, আয়িশা (রা.) বলেন, "আল্লাহ আনসারী নারীদের ওপর রহম করুন। যখন সূরা নূরের ৩১ নম্বর আয়াত (ওড়না বক্ষদেশে টেনে দেওয়ার নির্দেশ) নাযিল হলো, তখন তারা তাদের চাদর ছিঁড়ে তা দিয়ে ওড়না বানিয়ে মাথা ও বুক ঢেকে নিয়েছিল।" (সহীহ বুখারী-৪৭৫৮)।
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে কাসীর (র:) বলেন, ইবনে আব্বাস (রা.)-এর সূত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, 'যা প্রকাশ পায়' বলতে হাতের আংটি, চোখের সুরমা, মুখমণ্ডল এবং হাতের কব্জি বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রয়োজনে এগুলো খোলা রাখা যেতে পারে। তবে ফিতনার আশঙ্কা থাকলে মুখমণ্ডলও আবৃত করা উত্তম। তাফসীরে জালালাইন (জালালুদ্দিন সুয়ূতী ও জালালুদ্দিন মহল্লী) বলেন, এখানে ওড়না (খুমুর) দ্বারা বুক ও গলা ঢেকে রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন আরব নারীরা ওড়না পিঠের দিকে ঝুলিয়ে রাখত, ফলে বুক খোলা থাকত। এই আয়াত সেই রীতি পরিবর্তন করে বুক ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
কুরআন, হাদিস ও ব্যাখ্যা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহ পর্দার আদেশ দিয়েছেন। ইসলামে পর্দা কেবল একটি প্রথা নয়, বরং এটি নারীর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অনিবার্য বিধান। পর্দা চাপিয়ে দেয়া হয়নি, নামাজ, রোজা, অন্যান্য সকল ফরয ইবাদাতের মতো এটিও ফরয। ক্ষেত্র বিশেষে এর হুকুমও আলাদা হয়। মাহরাম পুরুষের সামনে সাধারণত ঘরোয়া পোশাকে থাকা যায়। তবে সতর বা লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা আবশ্যক। মাহরামদের সামনে মাথা, ঘাড়, হাত ও পায়ের নলা পর্যন্ত অংশ খোলা রাখা জায়েজ, যদি কোনো ফিতনার আশঙ্কা না থাকে। (সূরা নূর, আয়াত- ৩১)। আবার গায়রে মাহরামদের সামনে পর্দা হলো যাদের সাথে বিবাহ চিরস্থায়ীভাবে হারাম নয়, তারাই গায়রে মাহরাম (যেমন: চাচাতো/মামাতো ভাই, দুলাভাই, দেবর ইত্যাদি)। তাদের সামনে পর্দা করা ফরজ। চেহারা, হাতসহ পুরো শরীর ঢেকে রাখতে হবে। সুগন্ধি মেখে বা আকর্ষণীয় সাজসজ্জা করে তাদের সামনে আসা গুনাহ। (সূরা নূর, আয়াত- ৩১)। নামাজের সময় মুখমণ্ডল এবং দুই হাতের কবজি (কেউ কেউ পায়ের পাতাকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন) ছাড়া পুরো শরীর এবং চুল সুনিপুণভাবে ঢেকে রাখা আবশ্যক (ফরজ)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নামাজ ওড়না (খিমার) ছাড়া কবুল হয় না" (সুনানে আবু দাউদ- ৬৪১)।
পুরুষের সতর হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। এই অংশটুকু মাহরাম-গায়রে মাহরাম সবার সামনে ঢেকে রাখা ফরজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "উরু হচ্ছে সতর।" সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং-৪০১৪। আবার নামাজে পুরুষের সতর ঢাকা ফরজ। তবে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর আদব হিসেবে কেবল নাভি থেকে হাঁটু ঢাকা যথেষ্ট নয়। নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অবশ্যই ঢাকা থাকতে হবে, পাশাপাশি কাঁধ খোলা রেখে নামাজ পড়া মাকরূহ যদি কাপড় থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের কেউ যেন এক কাপড়ে এমনভাবে নামাজ না পড়ে যে তার কাঁধে কিছু নেই।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নং-৩৫৯)।
অন্যান্য ধর্মে পর্দার বিধান:
খ্রিস্টধর্ম: বাইবেলের নিউ টেস্টামেন্টে (১ করিন্থীয় ১১:৫-৬) প্রার্থনা বা উপাসনার সময় নারীদের মাথা ঢেকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক ঐতিহ্যবাহী খ্রিস্টান সম্প্রদায়, যেমন অ্যামিশ (Amish) ও মেনোনাইটরা এখনও নিয়মিত মাথা ঢেকে রাখে। ক্যাথলিক চার্চের সন্ন্যাসিনীরাও (Nuns) নম্রতার প্রতীক হিসেবে মাথায় ঘোমটা বা ওড়না ব্যবহার করেন।
ইহুদি ধর্ম: ইহুদি ধর্মে পর্দার বিধানকে বলা হয় 'জনুইত' (Tzniut), যার অর্থ শালীনতা। তৌরাতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিবাহিত ইহুদি নারীদের চুল ঢেকে রাখা আবশ্যক। অনেকে এর জন্য স্কার্ফ বা উইগ (Wig) ব্যবহার করেন।
হিন্দু ধর্ম: সনাতন ধর্মে সরাসরি 'পর্দা' শব্দটি না থাকলেও শালীনতা ও ঘোমটা (Ghoonghat) প্রথা ঐতিহাসিকভাবে প্রচলিত। বিশেষ করে উত্তর ভারতে বিবাহিত নারীরা বয়োজ্যেষ্ঠদের সামনে মাথার ওপর শাড়ির আঁচল বা ওড়না দিয়ে ঘোমটা দেন। তবে এটি ধর্মীয় আদেশের চেয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শিষ্টাচার হিসেবে বেশি পরিচিত।
শিখ ধর্ম: শিখ নারীরা অনেক ক্ষেত্রে মাথায় দুপাট্টা বা ওড়না ব্যবহার করেন। শিখ ধর্মে নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই শালীন পোশাক পরিধান করা এবং জনসম্মুখে মাথা ঢেকে রাখা (বিশেষ করে ধর্মীয় স্থানে) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সময়ের অবস্থা:
পাশ্চাত্য দেশগুলোয় পর্দা নেই তবু তারা উন্নত ও প্রাচ্যেরে থেকে উন্নত। তাদের অর্থনীতি উন্নত হলেও তাদের সমাজ ব্যবস্থা ভঙ্গুর। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম অপরাধ বিরোধী সংস্থা RAINN (Rape, Abuse & Incest National Network) এবং ব্যুরো অফ জাস্টিস স্ট্যাটিস্টিকস (BJS)-এর তথ্যমতে আমেরিকায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৪,৬৩,৬৩৪ জন (১২ বছর বা তার বেশি বয়সী) যৌন সহিংসতার শিকার হন। এর মধ্যে একটি বড় অংশ সরাসরি ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার শিকার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ৬৮ সেকেন্ডে একজন আমেরিকান যৌন নির্যাতনের শিকার হন। সব ঘটনা পুলিশের কাছে পৌঁছায় না। তবে এফবিআই (FBI) এবং Statista-এর রেকর্ড অনুযায়ী ২০২৩ সালে আমেরিকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আনুমানিক ১,২৭,২১৬টি ধর্ষণের মামলা রিপোর্ট করা হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৪.১ মিনিটে একটি করে ধর্ষণের ঘটনা পুলিশে নথিভুক্ত হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ONS)-এর তথ্যানুযায়ী ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শেষ হওয়া এক বছরে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে পুলিশ রেকর্ড অনুযায়ী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৭৪,২৬৫টি। এমন অবস্থা পাশ্চাত্যের প্রায় প্রতিটি দেশে।
শুধুমাত্র পর্দাই যে এর জন্য দায়ী তা নয়। ধর্ম, সমাজ ও আইন মতে অবশ্যই এটি ধর্ষকের দায়। একজন নারী কিভাবে চলবে তা তার উপর নির্ভর করে। এটি প্রত্যেকটি মানুষের তার রবের সাথে নিতান্তই একান্ত সম্পর্ক। তবে আল্লাহ ও নবী (সা:) এর নির্দেশনা হলো- ইসলামের বাণী যে জানে সে যেন যে জানে না তার কাছে পৌঁছে দিতে এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করতে। সে মানবে কি মানবে না সেটা নিতান্তই তার ও তার প্রতিপালকের ব্যাপার। কিয়ামাতের দিবসে সবাই সবার নিজের হিসাব দিবে।
পর্দা না করলে কী শাস্তি:
পর্দা লঙ্ঘন করা একটি ফরয হুকুম অমান্য করা। যা কবিরা গোনাহ।
আল্লাহ তা’আলা বলেন: "যারা মুমিন নারী ও পুরুষদের মধ্যে অশ্লীলতা প্রচার করতে চায়, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।" (সূত্র: সূরা আন-নূর, আয়াত: ১৯)।
রাসূলুল্লাহ (সা.) মিরাজের রাতে পর্দার বিধান লঙ্ঘনকারী ও ব্যভিচারীদের ভয়াবহ আজাব প্রত্যক্ষ করেছেন। বিশেষভাবে পোশাকের ক্ষেত্রে যারা অবহেলা করে তাদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন, "জাহান্নামীদের দুটি দল রয়েছে যাদের আমি (এখনও) দেখিনি... এক দল হলো এমন নারী যারা পোশাক পরিধান করেও উলঙ্গ থাকবে (পাতলা বা আঁটসাঁট পোশাকের কারণে), তারা অন্যদের আকর্ষণ করবে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, এমনকি জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না।" (সহীহ মুসলিম-২১২৮)।
খ্রিষ্টধর্মে শাস্তি: যারা অশ্লীলতা বা ব্যভিচারের পথে চলে, তাদের পরিণাম সম্পর্কে বলা হয়েছে, "যৌন পাপাচারী, অশুচি... তাদের জন্য উত্তরাধিকার নেই। তাদের অংশ হলো জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড ও গন্ধকের হ্রদ।" (বাইবেল, রিভিলেশন- ২১:৮ এবং ১ করিন্থীয়-৬:৯-১০)।
ইহুদী ধর্মে পর্দালঙ্ঘনের শাস্তি: যদি কোনো বিবাহিত নারী মস্তক আবরণ (পর্দা) ছাড়া বাইরে বের হয়, তবে স্বামী তাকে কোনো মোহরানা (Ketubah) প্রদান ছাড়াই তালাক দেওয়ার অধিকারী হয়। এটি তাদের জন্য চূড়ান্ত সামাজিক লাঞ্ছনা। (তালমুদ (Talmud), কেতুবত ৭২এ (Ketubot 72a)।)।
হিন্দু ধর্মে শাস্তি: মনুসংহিতা, অধ্যায় ৫, শ্লোক ১৬৪: "যে নারী তার স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত না থেকে পরপুরুষে আসক্ত হয়, সে লোকে নিন্দিত হয় এবং মৃত্যুর পর সে কুক্কুরীর (কুকুর) যোনিতে জন্মগ্রহণ করে এবং পাপব্যাধিতে আক্রান্ত হয়।"
পর্দার সামাজিক গুরুত্ব:
পর্দার বিধান কেবল একটি ধর্মীয় বিধান নয়, বরং এর পেছনে গভীর সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও ব্যক্তিগত যৌক্তিকতা রয়েছে। মর্যাদা ও ব্যক্তিত্বের সুরক্ষায় পর্দা একজন নারীকে কেবল তার দৈহিক সৌন্দর্যের ভিত্তিতে নয়, বরং তার মেধা, যোগ্যতা ও ব্যক্তিত্বের ভিত্তিতে মূল্যায়িত হতে সহায়তা করে। এটি নারীকে অন্যের লালসার বস্তু হওয়া থেকে রক্ষা করে। পর্দা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার বিশেষ সম্পর্ককে দৃঢ় করে। যখন নারী ও পুরুষ উভয়ই পরপুরুষ বা পরনারীর সামনে নিজেদের সংযত রাখে, তখন দাম্পত্য জীবনে বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় এবং পরকীয়ার মতো সামাজিক সমস্যা হ্রাস পায়। অশ্লীলতা ও নগ্নতা অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের উস্কানি দেয়। পর্দা সমাজ থেকে কুদৃষ্টি ও শ্লীলতাহানির ঝুঁকি কমিয়ে একটি নিরাপদ ও নির্মল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!