আইসিসি, পিসিবি, পাকিস্তান ক্রিকেট
বাংলাদেশ ইস্যুতে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির সাম্প্রতিক মন্তব্যে আইসিসি চরম অসন্তুষ্ট   ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইস্যুতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভির সাম্প্রতিক মন্তব্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) চরম অসন্তুষ্ট হয়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান যদি আসন্ন টুর্নামেন্ট বয়কটের পথে হাঁটে, তবে আইসিসি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আইসিসির সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তান যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সংস্থাটি পিসিবির ওপর বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে:
১. অন্য যেকোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাতিল।
২. পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের জন্য অনাপত্তি পত্র (এনওসি) প্রদান বন্ধ করা।
৩. এশিয়া কাপ থেকে পাকিস্তানকে বাদ দেওয়া।

আইসিসির এক সূত্র জানায়, "পাকিস্তান যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আইসিসি একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করবে। এর ফলে তারা কোনো আন্তর্জাতিক দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে পারবে না, পিএসএলে বিদেশি খেলোয়াড় পাওয়া যাবে না এবং এশিয়া কাপেও তাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হবে।"

পিসিবি প্রধানের অভিযোগ প্রেক্ষাপট :
এর আগে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি আইসিসির বিরুদ্ধে "দ্বিমুখী আচরণের" অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের প্রতি অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বিদেশ থেকে ফেরার পর সরকারি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হবে।

গণমাধ্যমকে নকভি বলেন, "বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট দেশ যখন খুশি যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে, অথচ অন্যের বেলায় নিয়ম উল্টো। বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি বড় অংশীদার এবং তাদের সঙ্গে এই অবিচার হওয়া উচিত নয়।"

হাইব্রিড মডেলের দাবি :
পিসিবি আইসিসির কাছে দাবি জানিয়েছে, পাকিস্তানের জন্য যেমন হাইব্রিড মডেল (কলম্বোতে পাকিস্তানের সব ম্যাচ খেলার ব্যবস্থা) রাখা হয়েছে, বাংলাদেশের জন্যও একই ধরনের ব্যবস্থা করা হোক।

নকভি বলেন, "পাকিস্তানের মতোই বাংলাদেশও আইসিসির পূর্ণ সদস্য। পাকিস্তান ও ভারত যদি বিশেষ সুবিধা পায়, তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হওয়া উচিত। একটি দেশ অন্য দেশের ওপর তাদের শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।"

সূত্র : দা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আরটিএনএন/এআই