গাভাস্কার, আইসিসি, ভারত বয়কট, পাকিস্তান, আইসিসি, পিসিবি
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের পাকিস্তানি ঘোষণাকে কটাক্ষ করেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার   ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের পাকিস্তানি ঘোষণাকে কটাক্ষ করেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও কিংবদন্তি ব্যাটার সুনীল গাভাস্কার। তাঁর মন্তব্য—যেভাবে পাকিস্তানের অনেক ক্রিকেটার অবসরের ঘোষণা দিয়ে আবার ফিরে আসেন, ঠিক তেমনভাবেই চাপ বাড়লে এই বয়কট সিদ্ধান্ত থেকেও পাকিস্তান ‘ইউ-টার্ন’ নিতে বাধ্য হতে পারে।

ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের চ্যানেল আজতাককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাভাস্কার বলেন, বিশ্বজুড়ে এবং পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্য থেকেও প্রতিক্রিয়া জোরালো হলে কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের অবস্থান বদলানোর সম্ভাবনা আছে। তাঁর ভাষ্য, “আমার মনে হয় আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করলে—এমনকি তাদের প্রাক্তন খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও—পাকিস্তান হয়তো নিজের অবস্থান পাল্টাতে পারে।”

গাভাস্কার আরও ইঙ্গিত দেন, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অবসর থেকে বারবার ফিরে আসার ঘটনাগুলোই এমন সিদ্ধান্ত বদলের ‘নজির’। তিনি পরোক্ষভাবে শহীদ আফ্রিদির মতো ক্রিকেটারদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “এতে নতুন কী আছে? আমরা তো জানিই পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা অবসর নেয়, তারপর চার দিন পর বলে—‘ভক্তরা বলেছে আরও খেলতে’—আর ফিরে আসে। এ ক্ষেত্রেও তা হতে পারে।”

কলম্বোতে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচটি ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তান সরকার ঘোষণা দেয়, তাদের জাতীয় দল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করবে—যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রধান মহসিন নাকভি—যিনি দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করছেন—বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০ দলের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি।

আইসিসির শাস্তির সম্ভাবনার কথাও বললেন গাভাস্কার

গাভাস্কার সতর্ক করে বলেছেন, পাকিস্তান যদি সত্যিই ভারতের বিপক্ষে না খেলে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত-পাকিস্তান একে অপরের দেশে সফরে অনাগ্রহী হওয়ায় আইসিসি ‘হাইব্রিড মডেল’ গ্রহণ করেছিল—যাতে দু’দলই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারে।

গাভাস্কার বলেন, “যদি পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে বড় ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর পক্ষে বৈধ কারণ দেখাতে না পারে, কিংবা চুক্তি ভাঙার গ্রহণযোগ্য ভিত্তি না থাকে—তাহলে আইসিসি বোর্ড ব্যবস্থা নেবে।”

পাকিস্তানের ঘোষণার পর আইসিসিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে—বিশ্ব টুর্নামেন্টে কোনো দল বেছে বেছে ম্যাচ খেলবে, এমন নজির পুরো প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে। আইসিসি জানিয়েছে, তারা এখনো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় আছে; তবে এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের বা বিশ্বব্যাপী দর্শকদের স্বার্থে নয়—পাকিস্তানের সমর্থকদের স্বার্থও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিসিসিআই সূত্র: ভারত নির্ধারিত সূচিই মানবে

বিসিসিআই ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভারতীয় দল সূচি অনুযায়ী কলম্বো যাবে, অনুশীলন ও প্রাক-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনসহ সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবে এবং এরপর ম্যাচ রেফারির সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করবে।

অতীতেও বয়কট-হুমকি দিয়েছিল পাকিস্তান

প্রতিবেদন স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, এর আগেও এশিয়া কাপে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল পাকিস্তান। তখন ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে—দুবাইয়ে ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত না মেলানোর ঘটনায় তিনি নাকি ভূমিকা রেখেছিলেন। পরে রেফারি ক্ষমা চেয়েছেন—এমন দাবি তুলে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ম্যাচ খেলতে বাধ্য হয়।

হারভজন সিং: শাস্তির জন্য প্রস্তুত থাকুক পাকিস্তান

সাবেক ভারতীয় অফস্পিনার হারভজন সিংও বলেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসির আয়ে সরাসরি প্রভাব পড়বে। তাই আইসিসি শাস্তিমূলক বা আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে এবং তা তাদের অধিকারও। হারভজনের বক্তব্য, “হাইব্রিড মডেলের কারণে এখন আর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে আগের মতো সমস্যা নেই। তাই পাকিস্তান যদি না খেলে—তাহলে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”

‘সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচ’ অনিশ্চয়তায়

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে লাভজনক ও আলোচিত লড়াই ধরা হয়। এই বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্ব মাথায় রেখেই ২০১২ সালের পর থেকে প্রায় প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টে আইসিসি দুই দলকে একই গ্রুপে রেখেছে—যদিও গত ১৪ বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কার্যত বন্ধ।

পাকিস্তান যদি সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে ২০১০ সালের পর প্রথমবার কোনো পুরুষ আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না থাকার ঘটনা ঘটতে পারে—যার ফল হিসেবে আইসিসির পক্ষ থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পথও খুলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গাভাস্কার আবারও বলেন, “আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে চারদিকে প্রতিক্রিয়া শুরু হলে পাকিস্তান হয়তো অবস্থান বদলাতে পারে।”

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

আরটিএনএন/এআই