ক্রিকেটের বিশ্বে প্রচলিত বেশ কয়েকটি নিয়ম বদলে গেছে। নতুন নিয়ম অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা সংগঠন মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে নতুন এই আইনকানুন কার্যকর হবে। খবর ক্রিকবাজের।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, একাধিক দিনের ক্রিকেটে (টেস্টসহ) দিনের শেষ ওভারে যদি উইকেট পড়ে, তবুও ওভার শেষ হবে না। পুরো ওভার সম্পন্ন করতে হবে এবং নতুন ব্যাটারকে মাঠে নেমে খেলা শুরু করতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এমসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সংস্করণের Laws of Cricket প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, মোট ৭৩টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পাশাপাশি ভাষাগত কিছু সংশোধন আনা হয়েছে। ২০১৭ সালের কোড কার্যকর হওয়ার পর এটি এমসিসির তৃতীয় বড় সংশোধন। এর আগে ২০১৯ ও ২০২২ সালে আইন হালনাগাদ করা হয়েছিল।
নতুন আইনগুলো ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এর আগে আইসিসির ক্রিকেট কমিটির বৈঠকে এসব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হবে এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্লেয়িং কন্ডিশনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে এই আইন প্রয়োগ করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের ওপর ছেড়ে দিয়েছে এমসিসি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের একটি এসেছে রান আউট ও স্টাম্পিংয়ের সময় বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। সংশোধিত আইনে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, কেবল বল স্পর্শ করলেই আউট হবে না। উইকেট বৈধ হতে হলে স্টাম্প ভাঙার মুহূর্তে বলটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। অর্থাৎ, হাত বা গ্লাভস দিয়ে হালকা করে বল ছুঁয়ে বেল ফেলে দিলে সেটি আর আউট হিসেবে গণ্য হবে না। এতে জটিল পরিস্থিতিতে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত নেয়া আরও সহজ হবে।
ক্রিকেটের দীর্ঘ সংস্করণে দিনের শেষ ওভার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে দিনের শেষ ওভারের মধ্যে কোনো উইকেট পড়লেও সেই ওভার সম্পূর্ণ করতে হবে। পরিস্থিতি ঠিকঠাক থাকলে নতুন ব্যাটারকে বাকি বলগুলো খেলতেই হবে; উইকেট পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দিনের খেলা শেষ হয়ে যাবে না।
উইকেটকিপারের অবস্থান সংক্রান্ত আইনেও সংশোধন করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বল ছাড়ার পরই কেবল উইকেটকিপারকে স্ট্রাইকারের স্টাম্পের পুরোপুরি পেছনে থাকতে হবে। আগে এই শর্ত বোলারের রানআপের সময় থেকেই প্রযোজ্য ছিল। আধুনিক আম্পায়ারিং ও প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
কখন একটি বলকে ‘চূড়ান্তভাবে স্থির’ ধরা হবে, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা হয়েছে। বল মাটিতে স্থির থাকলেও বা উইকেটকিপার ছাড়া অন্য কোনো ফিল্ডারের হাতে থাকলেও, প্রয়োজনে আম্পায়াররা বলকে ‘ডেড বল’ ঘোষণা করতে পারবেন। হিট উইকেট আইনের ব্যাখ্যাও আরও কড়া করা হয়েছে। ব্যাটার যতক্ষণ না সম্পূর্ণভাবে ভারসাম্য ফিরে পান, ততক্ষণ তিনি হিট উইকেটের প্রক্রিয়ায় থাকবেন বলে ধরা হবে।
ওভারথ্রো সংক্রান্ত আইনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন থেকে ওভারথ্রো ও মিসফিল্ডকে আলাদা করে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। কেবল স্টাম্পে থ্রো করে রান আউট করার চেষ্টা বা অতিরিক্ত রান ঠেকানোর উদ্দেশ্যে করা থ্রোকেই ওভারথ্রো হিসেবে গণ্য করা হবে।
আইসিসি আগে থেকেই যে কয়েকটি নিয়ম কার্যকর করেছে, সেগুলোকেও নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাউন্ডারি ক্যাচের ব্যাখ্যা। যেখানে তথাকথিত ‘বানিহপ’ কৌশল বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, শূন্যে ভেসে বল ধরার পর হাতে থাকলে ও মাটিতে পা ফেললে সেটি অবশ্যই বাউন্ডারির মধ্যে থাকতে হবে। পাশাপাশি, ইচ্ছাকৃত শর্ট রান করলে সব রান বাতিল হবে, ফিল্ডিং দল পাবে পাঁচ পেনাল্টি রান এবং কোন ব্যাটার স্ট্রাইকে থাকবে তা নির্ধারণ করবেন ফিল্ডিং দলের অধিনায়ক।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!