নেইমার, ব্রাজিল, সান্টোস
অবসরের দ্বারপ্রান্তে নেইমার?   ছবি: সংগৃহীত

২০০৯ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সান্তোসের জার্সিতে শুরু হয়েছিল নেইমারের পেশাদার ফুটবল যাত্রা। এখন ৩৪ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে অবসরের কথা ভাবছেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার। ব্রাজিলের একটি অনলাইন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষেই হয়তো বুটজোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

গত বছরের জানুয়ারিতে সৌদি ক্লাব আল হিলাল ছেড়ে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসেন নেইমার। ক্লাবটির সাথে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত চুক্তিও নবায়ন করেছেন তিনি। চোটজর্জর হওয়া সত্ত্বেও ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে সান্তোসকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এই ফরোয়ার্ড। তবে গত ডিসেম্বরে হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের কারণে নতুন মৌসুমের শুরুতে মাঠে নামতে পারেননি, ফিরেছেন মাত্র গত সপ্তাহে।

২০২৬ বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও চোট যেন পিছু ছাড়ছে না। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যায়নি তাকে। কোচ কার্লো আনচেলত্তি গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বলে আসছেন, পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পেলে নেইমারের জন্য জাতীয় দলের দরজা সবসময় খোলা। কিন্তু ফিটনেসের অভাবে সেই শর্ত পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

ক্রমাগত চোটের কারণেই হয়তো নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন নেইমার। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "সামনে কী হবে জানি না। আগামী বছর নিয়েও কিছু বলা কঠিন। হয়তো ডিসেম্বরেই অবসর নিতে চাইব। এখন আমি বছর ধরে এগোচ্ছি।" অর্থাৎ সান্তোসের সাথে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষেই হয়তো বিদায় বলবেন তিনি। তবে সবকিছু নির্ভর করছে তার মনের ওপর। তিনি বলেন, "বছরের শেষ দিকে আমার মন যা বলবে, সেটির ওপরই সব নির্ভর করছে।"

দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সাও পাওলো চ্যাম্পিয়নশিপে ভেলো ক্লাবের বিপক্ষে সান্তোসের ৬-০ গোলের জয়ে মাঠে ফেরেন নেইমার। গোল না পেলেও সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়ে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে সাহায্য করেন। তবে পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরতে নিজেকে সংযত রাখতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

গত বছরের শেষদিকে সান্তোস যখন লিগ থেকে অবনমনের শঙ্কায় পড়েছিল, তখন চোট নিয়েই শেষ তিন ম্যাচে খেলেছিলেন নেইমার। তার অসামান্য অবদানের কারণেই শীর্ষ লিগে টিকে যায় সান্তোস। কিন্তু এর চড়া মূল্য দিতে হয় তাকে, করাতে হয় হাঁটুর অস্ত্রোপচার। তখন থেকেই প্রশ্ন উঠছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে কি আদৌ দেখা যাবে নেইমারকে?

উত্তরটা সম্ভবত নেইমার নিজেও খুঁজছেন। তিনি জানেন, বিশ্বকাপে খেলতে হলে সবার আগে জাতীয় দলে ফিরতে হবে, আর সে জন্য সান্তোসের হয়ে নিয়মিত পারফর্ম করা জরুরি। আনচেলত্তির স্কোয়াডে জায়গা করে নেওয়া যে বড় চ্যালেঞ্জ, তা তিনি আগেই স্বীকার করেছেন।

২০২৬ সাল সান্তোস, ব্রাজিল এবং নিজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নেইমার বলেন, "এ বছরটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সান্তোস নয়, ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্যও। কারণ এটি বিশ্বকাপের বছর। আমি এ মৌসুমে শতভাগ খেলতে চাই।" ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমার ইউরোপেও বার্সেলোনা ও পিএসজির হয়ে জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা। এর আগে তিনি তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন।

আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে 'সি' গ্রুপে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। নেইমার কি পারবেন শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে জ্বলে উঠতে, নাকি ডিসেম্বরেই ইতি টানবেন তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের—সেটাই এখন দেখার বিষয়।