খেলা
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।   ছবি: সংগৃহীত

আইসিসি টুর্নামেন্টে ইতিহাস বলে, অস্ট্রেলিয়া বিদায় নিলে পাকিস্তানের ভাগ্য খুলে যায় এমন বিশ্বাস বহুদিনের। কাকতালীয় হলেও তিনটি বড় শিরোপা জয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত মিল। তাই চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সেই পুরোনো সমীকরণ ঘিরে আশায় বুক বাঁধছেন পাকিস্তান সমর্থকরা। প্রশ্ন হচ্ছে এবারও কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে?

পাকিস্তান এখন পর্যন্ত তিনটি বড় আইসিসি শিরোপা জিতেছে। প্রথমটি ১৯৯২ সালে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে। ইমরান খানের নেতৃত্বে সে আসরে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। সেই টুর্নামেন্টেই চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান।

দ্বিতীয় শিরোপা আসে ২০০৯ সালে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই আসরেও গ্রুপপর্ব পেরুতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শিরোপা জেতে পাকিস্তান।

তৃতীয় সাফল্য ২০১৭ সালে, আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। সেবারও অস্ট্রেলিয়া গ্রুপপর্বেই বিদায় নেয়। আর পাকিস্তান ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে।

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও গ্রুপপর্বেই ছিটকে গেছে অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বিদায় নেয় ট্রাভিস হেড ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলদের দল। ফলে আবারও আলোচনায় সেই পুরোনো সমীকরণ।

অন্যদিকে পাকিস্তান গ্রুপপর্বে চার ম্যাচে তিন জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে সুপার এইটে। ব্যাটিং-বোলিংয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। বিশেষ করে বোলিং ইউনিটের ধারাবাহিকতা দলকে বাড়তি শক্তি জুগিয়েছে।

২০ দল নিয়ে শুরু হওয়া এই আসরে প্রতিটি গ্রুপ থেকে সেরা দু’দল করে মোট আটটি দল উঠেছে সুপার এইটে। ২১ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে সেরা আটের লড়াই।

গ্রুপ ‘ওয়ান’ এ রয়েছে ভারত, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আর গ্রুপ ‘টু’ তে আছে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। অর্থাৎ পাকিস্তানের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন প্রতিপক্ষের পরীক্ষা।

নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচগুলো হতে পারে নির্ধারণী। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কাও এবার চমক দেখাতে সক্ষম। ফলে কেবল কাকতালীয় সমীকরণে ভরসা করলে চলবে না পারফরম্যান্সই হবে আসল চাবিকাঠি।

ক্রিকেটে কাকতালীয় ঘটনা নতুন নয়। পরিসংখ্যান অনেক সময় সমর্থকদের স্বপ্ন দেখায়, কিন্তু বাস্তবতা নির্ধারণ করে মাঠের লড়াই। অস্ট্রেলিয়ার বিদায় পাকিস্তানের জন্য শুভ সংকেত হতে পারে তবে সেটি নিশ্চিত সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়।

সামনে কঠিন পথ, শক্ত প্রতিপক্ষ এবং চাপের ম্যাচ। ইতিহাসের মিল এবারও বজায় থাকবে কি না, সেটির উত্তর মিলবে মাঠেই। আপাতত সমীকরণে হাসি ফুটলেও, শিরোপার জন্য পাকিস্তানকে দেখাতে হবে ধারাবাহিক, নির্ভুল ও সাহসী ক্রিকেট।