বাবর আজম, পাকিস্তান, টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
বাবর আজম   ছবি: সংগৃহীত

বাবর আজম কি আসলেই পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলের জন্য উপযুক্ত? এই প্রশ্ন নতুন নয়, তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ার পরও এই আলোচনা থামেনি। বরং পাকিস্তানের টিভি শো ‘গেম অন হ্যায়’-তে কিংবদন্তি পেসার শোয়েব আখতারের মন্তব্যে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস খ্যাত শোয়েব সোজাসাপ্টা বলেছেন, বাবরের উচিত নিজে থেকেই এই সংস্করণ থেকে সরে দাঁড়ানো। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটটি সম্ভবত বাবরের জন্য নয়। আর যদি খেলাতেই হয়, তবে তাকে ওপেনিংয়েই নামানো উচিত। দল যে তাকে চার নম্বরে খেলাচ্ছে, সেটিকে ‘ভুল কৌশল’ আখ্যা দিয়ে শোয়েব বলেন, "এটা কোনো রকেট সায়েন্স নয়, খেলালে তাকে প্রথম ৬ ওভারের মধ্যেই ব্যাটিং করতে দেওয়া উচিত।" তিনি মনে করেন, এই অহেতুক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুধু বাবরের ক্যারিয়ারই দীর্ঘায়িত করছে, দলের কোনো কাজে আসছে না।

টুর্নামেন্টে বিবর্ণ পারফরম্যান্স

প্রায় ১০ মাস টি-টোয়েন্টি দলের বাইরে থাকার পর ফিরে এসে তিনটি ফিফটি করলেও বিশ্বকাপে বাবর যেন নিজের ছায়া হয়ে আছেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১৫ রানে আউট হওয়া, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মন্থর গতির ৪৬ রান এবং ভারতের বিপক্ষে মাত্র ৫ রানে সাজঘরে ফেরা—সব মিলিয়ে সময়টা ভালো যাচ্ছে না। এমনকি নামিবিয়ার বিপক্ষে পাওয়ার হিটারদের সুযোগ দিতে তাকে ব্যাটিং অর্ডারে আরও নিচে নামানো হয়েছিল।

চার নম্বরে বাবর: পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি

পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন বাবরকে চারে খেলানোর পেছনে ‘ব্যাটিং দক্ষতা’ এবং ইনিংস ধরে রাখার যুক্তি দেখাচ্ছেন। তার মতে, বাবর শুরুতে বা শেষে দ্রুত রান তুলতে পারছেন না, তাই মিডল অর্ডারে তাকে রাখা হচ্ছে। তবে সাবেক অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ এই যুক্তি মানতে নারাজ। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, "বাবরকে যদি একাদশে রাখতেই হয়, তবে টপ অর্ডার ছাড়া তার কোনো জায়গা নেই। চার নম্বর পজিশন তার জন্য উপযুক্ত নয়।"

পরিসংখ্যান কী বলছে?

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং সবচেয়ে বেশি ফিফটির (৪২টি) মালিক কিন্তু বাবর আজমই। ১৩৫ ইনিংসে তার রান ৪৫৭১, গড় ৩৯.০৬ এবং স্ট্রাইক রেট ১২৮.১৮। ওপেনিংয়ে ৮৭ ইনিংসে তিনি ৩৮.১১ গড়ে ২৯৭৩ রান করেছেন, যেখানে স্ট্রাইক রেট ১৩০.৫৬। এরপর সবচেয়ে বেশি খেলেছেন তিন নম্বরে। সেখানে ৪০ ইনিংসে গড় বেড়ে ৪২.৮৭ হলেও স্ট্রাইক রেট কমে দাঁড়িয়েছে ১২৫.৬৪-এ। তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৩৫০০ রানের বেশি করা ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে কম স্ট্রাইক রেট বাবরেরই, যা সমালোচকদের যুক্তিতে বাড়তি রসদ জোগাচ্ছে।