নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
ডু অর ডাই ম্যাচে মুখোমুখি শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ড   ছবি: সংগৃহীত

আজ বুধবার (২৫.০২.২০২৫) যখন নিউজিল্যান্ড খেত্তারামা স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের নিচে নামবে, তখন তাদের শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের পর আট দিন পার হয়ে যাবে। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর শ্রীলঙ্কাই বরং নিজেদের অপ্রস্তুত মনে করতে পারে। সহ-আয়োজক হিসেবে নিজ দেশের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে তারা।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা তাদের বড় ধরনের ভুলগুলো শুধরাতে চাইবে। টুর্নামেন্টের শুরুতে ব্যাট হাতে তারা দারুণ ছিল—অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপুটে রান তাড়া এবং ওমানকে ধসিয়ে দেওয়ার স্মৃতি খুব বেশি পুরনো নয়। কিন্তু সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিং লাইনআপের সেই ধস আবারও পুরনো ভূতের ভয় জাগিয়ে তুলেছে।

এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার জন্য মূলমন্ত্র হবে 'স্বচ্ছতা'। আগের ম্যাচে একটি কঠিন ও আঠালো উইকেটে কীভাবে খেলতে হবে, তা নিয়ে লঙ্কান ব্যাটাররা দ্বিধায় ছিলেন। কুশল ও কামিন্দু মেন্ডিসের মতো কেউ কেউ সিঙ্গেল নিতে গিয়ে আউট হয়েছেন। ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর বলেছিলেন, আঠালো উইকেটে এমন "নিরাপদ" স্ট্রোক খেলাও হয়তো সঠিক কৌশল ছিল না, কারণ এতেও ভুলের সম্ভাবনা থাকে।

অন্যরা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেও টাইমিং ও শট নির্বাচনে ভুল করেছেন। আবার কামিল মিশারার মতো কেউ কেউ উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করলেও শেষমেশ ভুল শট খেলেই বিদায় নিয়েছেন।

ওই ম্যাচটি উত্তরের চেয়ে প্রশ্নই বেশি রেখে গেছে, আর নিউজিল্যান্ড নিশ্চিতভাবেই সেই দুর্বল জায়গাগুলোতে আঘাত হানতে চাইবে।

নিউজিল্যান্ড এই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে মাঠে নামবে। চেন্নাই ও আহমেদাবাদের ফ্ল্যাট ও ব্যাটিং-বান্ধব উইকেটে তারা তাদের সব ম্যাচ খেলেছে। তবে শ্রীলঙ্কায় তাদের আরও হিসেবি ব্যাটিং করতে হবে, বিশেষ করে লঙ্কান স্পিনাররা যখন ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগাতে মরিয়া থাকবে।

হেড-টু-হেড রেকর্ডেও নিউজিল্যান্ড এগিয়ে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাদের জয়-পরাজয়ের অনুপাত ১৬-৯; এমনকি শ্রীলঙ্কার মাটিতেও তা ৫-৩ ব্যবধানে কিউইদের পক্ষে। সাম্প্রতিক ইতিহাসও খুব একটা ভিন্ন নয়—দুইটি জয়ের মাঝে তিনটি হারের স্বাদ পেয়েছে শ্রীলঙ্কা।

তবে বড় টুর্নামেন্টের প্রেক্ষাপটে এসব পরিসংখ্যান খুব একটা কাজে আসে না, বিশেষ করে এমন এক ম্যাচে যা দুই দলের জন্যই কার্যত 'মাস্ট-উইন' বা বাঁচা-মরার লড়াই। শ্রীলঙ্কার জন্য হার মানেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের জন্য কিছুটা সুযোগ থাকতে পারে—বিশেষ করে সোমবার রাতে যদি ইংল্যান্ড পাকিস্তানকে হারায়—তবে তখন তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলাফলের দিকে।

সাম্প্রতিক ফর্ম

শ্রীলঙ্কা: হার, হার, জয়, জয়, জয় (শেষ পাঁচটি ম্যাচ, সর্বশেষটি আগে)

নিউজিল্যান্ড: জয়, হার, জয়, জয়, হার

আলোচনায় যারা

এই টুর্নামেন্টে খেলা স্পিনারদের মধ্যে পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিচেল স্যান্টনারের চেয়ে ভালো রেকর্ড কেবল অ্যাডাম জাম্পা ও আদিল রশিদের আছে। ১১ ম্যাচে তিনি মাত্র দুইবার উইকেটশূন্য ছিলেন এবং ৬.৩৮ ইকোনমি রেটে ১৪ উইকেট নিয়েছেন—যা তার ক্যারিয়ার ইকোনমি ৭.২৪-এর চেয়ে অনেক কম। তবে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে স্পিন-বান্ধব এই ভেন্যুতে স্যান্টনারের এটিই প্রথম ম্যাচ হবে এবং তিনি তার রেকর্ড আরও উন্নত করার চেষ্টা করবেন।

শ্রীলঙ্কার হয়ে দুনিথ ভেল্লালাগে এই টুর্নামেন্টে সাত উইকেট নিয়েছেন, যা মহেশ থিকসানার (৮) ঠিক পরেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাকে পাওয়ারপ্লেতে বল দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি ওই সময়ে ১৬ রানে ১ উইকেট নেন। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেট নিয়ে ২৬ রান দিয়ে তিনি ইনিংসের সেরা বোলার ছিলেন। খেত্তারামায় খেলা হওয়ায় কন্ডিশন তার জন্য আরও সহায়ক হতে পারে। ব্যাট হাতেও শ্রীলঙ্কা তার ওপর ভরসা রাখবে, কারণ ইতিমধ্যে তাকে দুইবার ৫ নম্বরে ব্যাট করতে পাঠানো হয়েছে।

দলের খবর

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিং পারফরম্যান্সে শ্রীলঙ্কা হতাশ হলেও দলে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। কুশল পেরেরার জায়গায় আসা কামিল মিশারা সম্ভবত আরেকটি সুযোগ পেতে পারেন।

শ্রীলঙ্কা একাদশ (সম্ভাব্য): ১. পাথুম নিশাঙ্কা, ২. কামিল মিশারা, ৩. কুশল মেন্ডিস, ৪. পবন রত্নায়েকে, ৫. দাসুন শানাকা, ৬. কামিন্দু মেন্ডিস, ৭. দুনিথ ভেল্লালাগে, ৮. দুশান হেমন্ত, ৯. দুষ্মন্ত চামিরা, ১০. মহেশ থিকসানা, ১১. দিলশান মাদুশাঙ্কা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় অতিরিক্ত দুই দিন বিশ্রাম পেয়েছে নিউজিল্যান্ড, ফলে তাদের ১৫ সদস্যের সবাই ফিট আছেন। জ্যাকব ডাফির জায়গায় লকি ফার্গুসনের ফেরার কথা ছিল, তবে বৃষ্টির কারণে তা হয়নি।

নিউজিল্যান্ড একাদশ (সম্ভাব্য): ১. টিম সিফার্ট (উইকেটরক্ষক), ২. ফিন অ্যালেন, ৩. রাচিন রবীন্দ্র, ৪. গ্লেন ফিলিপস, ৫. মার্ক চ্যাপম্যান, ৬. ড্যারিল মিচেল, ৭. মিচেল স্যান্টনার (অধিনায়ক), ৮. জিমি নিশাম, ৯. ম্যাট হেনরি, ১০. ইশ সোধি, ১১. লকি ফার্গুসন।

পিচ কন্ডিশন

খেত্তারামায় এটি একটি নতুন উইকেট হতে যাচ্ছে, তবে আশা করা হচ্ছে উইকেটটি বেশ শুষ্ক বা ড্রাই থাকবে। স্পিনাররা এখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসও বেশ আশাব্যঞ্জক—সারাদিন গরম ও আর্দ্র থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, যা ম্যাচের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পরিসংখ্যান তথ্য

এই টুর্নামেন্টে খেলা চারটি ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ওভারপ্রতি ১০.৩৭ রান করে তুলেছে, যা যেকোনো দলের চেয়ে সেরা। শ্রীলঙ্কা ৮.৯২ রান রেট নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে।

উইকেটপ্রতি রানেও নিউজিল্যান্ড শীর্ষে (৫০.৬৪), যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনেক পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে (৩৮.৭৯)।

তবে উইকেট নেওয়ার দিক থেকে নিউজিল্যান্ড তলানিতে; চার ম্যাচে তারা মাত্র ১৪ উইকেট পেয়েছে। শ্রীলঙ্কা পাঁচ ম্যাচে ৩০ উইকেট নিয়েছে, আর ভারত ৪১ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে।

সূত্র : ইএসপিএন ক্রিকইনফো

আরটিএনএন/এআই