মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককঞ্চির অসাধারণ এক জুটিতে শ্রীলঙ্কাকে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিল নিউজিল্যান্ড। স্বাগতিকদের দুর্দান্ত শুরুর পরও কিউইরা ৬১ রানের বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছে। আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের বিদ্যুৎচমকানো পরিবেশে, যেখানে সম্ভবত টুর্নামেন্টের সেরা আমেজ ছিল, শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা নিউজিল্যান্ডের টপ ও মিডল অর্ডারকে ধসিয়ে দিয়েছিল। একপর্যায়ে কিউইদের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ৮৪ রান।
কিন্তু ঠিক যখন নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থমকে যাওয়ার উপক্রম, তখনই শেষ চার ওভারে পাল্টা আক্রমণে ঝড় তোলেন স্যান্টনার ও ম্যাককঞ্চি। দুশমন্ত চামিরার ওপর চড়াও হয়ে ম্যাককঞ্চি এই ঝড়ের সূচনা করেন। এরপর স্যান্টনার মাহিশ থিকশানাকে—যিনি তখন পর্যন্ত ম্যাচের সেরা বোলার ছিলেন—নাকানিচুবানি খাওয়ান। এই জুটির তাণ্ডবে শেষ চার ওভারে আসে ৭০ রান। তারা দুজনে মিলে ৮৪ রানের জুটি গড়েন, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সপ্তম উইকেটে সর্বোচ্চ।
এই অতর্কিত আক্রমণের ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাট হেনরির ইনসুইঙ্গারে দলের সেরা তারকা পাথুম নিসাঙ্কাকে হারায় তারা। পরের ওভারেই বিদায় নেন চারিথ আসালাঙ্কা। এরপর নিউজিল্যান্ডের স্পিন বিষে নীল হয়ে শ্রীলঙ্কা নিজেদের গুটিয়ে নেয়।
ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে রাচিন রবীন্দ্র ছিলেন পার্ট-টাইম বোলার, কিন্তু এবার তাকেই মূল ভূমিকায় নামানো হয়। নিজের প্রথম ওভারেই তিনি দুই উইকেট তুলে নেন এবং ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন—যা টি-টোয়েন্টিতে তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। দর্শকরা দলের জয়ে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত থাকলেও, শ্রীলঙ্কা ১০৭ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।
থিকশানার অম্ল-মধুর দিন
দিনটা মাহিশ থিকশানার জন্য ছিল উত্থান-পতনের। দিলশান মাদুশঙ্কার বলে টিম সেইফার্টের ক্যাচ শর্ট থার্ডে মিস করে বোলারকে হতাশ করেন তিনি। তবে পরের ওভারেই নিজের বোলিংয়ে ফিন অ্যালেনকে ফেরাতে দারুণ এক ডাইভ দিয়ে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন। এরপর তিনি নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং ধসে নেতৃত্ব দেন, তিন বলের ব্যবধানে রবীন্দ্র ও মার্ক চ্যাপম্যানকে সাজঘরে পাঠান। তখন তার বোলিং ফিগার ছিল ৩-০-৯-৩। কিন্তু শেষ ওভারে স্যান্টনার তার ওপর চড়াও হয়ে ২১ রান তুলে নেওয়ায় সেই পরিসংখ্যান কিছুটা মলিন হয়ে যায়।
হেনরির জোড়া আঘাতে টালমাটাল শ্রীলঙ্কা
স্যান্টনার-ম্যাককঞ্চির জুটির কল্যাণে ইনিংসের মাঝপথেই নিউজিল্যান্ডের হাতে মোমেন্টাম ছিল। ম্যাট হেনরি তা ধরে রাখতে কোনো ভুল করেননি। চেজের প্রথম বলেই তিনি নিসাঙ্কার স্টাম্প উপড়ে দেন এক দুর্দান্ত ইনসুইঙ্গারে। এটি ছিল উইকেট মেইডেন ওভারের শুরু। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ফিরে এসে তিনি আসালাঙ্কাকেও ফেরান।
ম্যাককঞ্চি ও স্যান্টনার পাওয়ারপ্লেতে শ্রীলঙ্কাকে আরও কোণঠাসা করে ফেলেন। প্রথম ছয় ওভারের মধ্যে তাদের করা তিন ওভারে মাত্র ১৪ রান আসে। ফলে পাওয়ারপ্লে শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ২০—যা টুর্নামেন্টের সর্বনিম্ন পাওয়ারপ্লে স্কোর।
রবীন্দ্রর পথপ্রদর্শন
এই বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচ নিউজিল্যান্ড চেন্নাইয়ের পাটা উইকেটে খেলেছে। কিন্তু আজকের বোলিং পারফরম্যান্সে তাদের দলের নমনীয়তা ফুটে উঠেছে। কলম্বোর মন্থর ও স্পিন সহায়ক উইকেটের জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল। বোলিং গভীরতা বাড়াতে জেমস নিশামের জায়গায় ম্যাককঞ্চিকে একাদশে নেওয়া হয় এবং ইশ সোধি টুর্নামেন্টে তার প্রথম ম্যাচ খেলেন (পাকিস্তানের বিপক্ষে পরিত্যক্ত ম্যাচ বাদে)।
তবে নিউজিল্যান্ডের এই নমনীয়তার প্রতীক হয়ে ওঠেন রাচিন রবীন্দ্র। তিনি তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডারের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। সব মিলিয়ে সফরকারীরা পাঁচজন ভিন্ন স্পিনার ব্যবহার করে এবং পুরো ইনিংসে মাত্র তিন ওভার পেস বোলিং করানো হয়—যা টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের জন্য সর্বনিম্ন।
সূত্র : ইএসপিএন ক্রিকইনফো
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!