আফগানিস্তান, টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, রিচার্ড পাইবাস
রিচার্ড পাইবাস   ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানের নবনিযুক্ত প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে কাজ করতে তার কোনো সমস্যা নেই। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আফগানিস্তানে এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু হয়নি। ফলে বিদেশি কোচেরা সাধারণত দেশের বাইরে থেকেই কাজ করেন এবং আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ভারতে দলের সাথে যোগ দেন। উল্লেখ্য, ইউএই ছাড়াও গ্রেটার নোইডা, দেরাদুন ও লক্ষ্মৌ আফগানিস্তানের ‘হোম’ ম্যাচ আয়োজন করেছে।

ক্রিকবাজ আগেই জানিয়েছিল যে, অতীতের প্রথা ভেঙে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের নতুন প্রধান কোচ ও কোচিং স্টাফদের আফগানিস্তানে থেকেই কাজ করতে হবে। এর আগে জোনাথন ট্রট প্রায় চার বছর দায়িত্ব পালনের পর চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষে পদত্যাগ করেন। এসিবি তার স্থলাভিষিক্ত খুঁজছিল।

যখন এসিবি রিচার্ড পাইবাসের নাম নতুন প্রধান কোচ হিসেবে ঘোষণা করে, তখন অনেকেই ভুরু কুঁচকেছিলেন—তিনি কি আদৌ আফগানিস্তানে থেকে কাজ করতে রাজি হবেন? বুধবার ক্রিকবাজের এক প্রশ্নের জবাবে পাইবাস আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে কাজ করার সম্ভাবনায় বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। মার্চের মাঝামাঝি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন সাদা বলের সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন পাইবাস। তিনি বলেন, “না (আফগানিস্তানে এসে কাজ করার ব্যাপারে দ্বিতীয়বার ভাবিনি)। আমার এতে কোনো সমস্যা নেই।”

তিনি আরও বলেন, “আপনি জানেন, আমি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করেছি, তাই আমার কোনো সমস্যা নেই। আমি মুখিয়ে আছি এবং দেশের প্রতিভা দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।” তিনি বলেন, “আমি আফগানিস্তান সম্পর্কে চমৎকার সব কথা শুনেছি। তাদের অবিশ্বাস্য ক্রিকেট সংস্কৃতি আমার খুব ভালো লাগে। মানে, দেশটির ক্রিকেটের বিবর্তন দেখাটা দারুণ—কীভাবে তারা এত দ্রুত এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তারা বিশ্বের সেরা দলগুলোর সমকক্ষ, এমনকি নিজেদের দিনে তাদের চেয়েও ভালো খেলে।”

তিনি যোগ করেন, “গত কয়েকটি বিশ্বকাপে আমরা তা দেখেছি। আর এই প্রতিভাগুলো দেখা সত্যিই অসাধারণ।” পাইবাস বলেন, “তাই আমি বিভিন্ন প্রদেশে গিয়ে খেলোয়াড় খুঁজে বের করা, নির্বাচকদের সাথে কাজ করা এবং খেলোয়াড়দের উন্নয়নে ব্যস্ত হওয়ার অপেক্ষায় আছি। আর এই উন্নয়ন কাজটা সিরিজের সময় হয় না। খেলোয়াড়দের আসল উন্নয়ন হয় সিরিজের বাইরের সময়টাতে, পর্দার আড়ালে।”

তিনি বলেন, “দলটি সময়ের সাথে সাথে দারুণ উন্নতি করেছে। গত কয়েকটি বিশ্বকাপে আমরা দেখেছি, তারা এখন সত্যিই একটি শক্তিশালী ক্রিকেট দল। তাই আমি খুবই রোমাঞ্চিত।” পাইবাস জানান, আপাতত তার প্রধান লক্ষ্য ক্রিকেটারদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং দলের গভীরতা বা ডেপথ চার্ট সম্পর্কে জানা। তিনি মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে এটিই পার্থক্য গড়ে দেবে।

তিনি বলেন, “আপাতত খেলোয়াড়দের চেনা, নেতৃত্বের সাথে পরিচিত হওয়া এবং দলের সাথে মানিয়ে নেওয়াটাই আমার কাজ। তারা সাদা বলের ক্রিকেটে সত্যিই চমৎকার একটি দলে পরিণত হয়েছে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে যারা আছেন তারা তো আছেনই, কিন্তু এর নিচের স্তরে কী প্রতিভা আছে তা বোঝাও জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “আপনার সিস্টেমের গভীরতা ও শক্তি যত বেশি, আপনি ততটাই ভালো দল। তাই এটি আমার অন্যতম প্রধান ফোকাস হবে।”

তিনি যোগ করেন, “গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা ইনজুরিতে পড়লে দল দুর্বল হয়ে যায়। তাই গভীরতা বাড়ানো, জায়গা নিয়ে প্রতিযোগিতা তৈরি করা, বর্তমান খেলোয়াড়দের সমর্থন ও উন্নয়ন এবং দল ও সিস্টেম কোথায় দাঁড়িয়ে আছে—তা মূল্যায়ন করাই আমার কাজ।” 

আপাতত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টি ও তিনটি ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতি নিয়ে ভালো শুরু করতে চান পাইবাস। সিরিজটি টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে। শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৩ মার্চ প্রথম টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে। একই ভেন্যুতে ১৫ ও ১৭ মার্চ দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-টোয়েন্টি খেলা হবে। এরপর ওয়ানডে সিরিজের জন্য ভেন্যু দুবাইয়ে স্থানান্তরিত হবে। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২০, ২২ ও ২৫ মার্চ ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “সবার আগে আমাদের ফোকাস ওই সিরিজের (শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে) দিকে। তারা সাদা বলের ক্রিকেটে চমৎকার দল এবং আমরাও দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলতে চাই।”

সূত্র : ক্রিকবাজ

আরটিএনএন/এআই