এআইয়ের যুগে মানুষের তৈরি কনটেন্ট আলাদা করার জন্য আসছে ‘হিউম্যান-মেড’ লোগো।
এআইয়ের যুগে মানুষের তৈরি কনটেন্ট আলাদা করার জন্য আসছে ‘হিউম্যান-মেড’ লোগো।   ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার বিশ্বজুড়ে সৃজনশীল ক্ষেত্রে মানুষের কাজকে আলাদা করে চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তা বাড়াচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘হিউম্যান-মেড’, ‘প্রাউডলি হিউম্যান’, ‘নো এআই’ বা ‘এআই-ফ্রি’ জাতীয় লোগো বা ট্যাগলাইন চালুর উদ্যোগ দেখা দিয়েছে। এসব চিহ্ন চলচ্চিত্র, বই, বিজ্ঞাপন ও ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন পণ্য ও কনটেন্টে ব্যবহার করা হবে, যাতে বোঝা যায় যে তা সম্পূর্ণ মানুষের তৈরি।

বিশ্বের অনেক প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার ছাড়া তৈরি কনটেন্ট আলাদা চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। খবর বিবিসি অনুযায়ী, এর পেছনের মূল কারণ হলো এআই প্রযুক্তির দ্রুত বৃদ্ধি এবং এ কারণে মানুষের কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা।

বর্তমানে অন্তত ৮টি ভিন্ন উদ্যোগ একক ও স্বীকৃত লোগো তৈরি করতে কাজ করছে। উদ্যোক্তারা চাইছেন, এই লোগো যেন ‘ফেয়ার ট্রেড’-এর মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, লোগোর ভিন্নতা ও সংজ্ঞার অস্পষ্টতার কারণে ভোক্তারা বিভ্রান্ত হতে পারেন।

এআইয়ের প্রভাব ফ্যাশন, বিজ্ঞাপন, প্রকাশনা ও সঙ্গীত শিল্পে দিন দিন বেড়ে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো যাচাই-বাছাই করে ‘মানবসৃষ্ট’ কনটেন্টকে সনদ দিচ্ছে। কোনো সৃজনশীল কাজে এআই ব্যবহৃত হয়েছে কি না তা উন্নত সফটওয়্যার ও বিশ্লেষকের মাধ্যমে যাচাই করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘হেরেটিক’-এর শেষে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এতে কোনো জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করা হয়নি। প্রকাশনা সংস্থা ‘ফেবার অ্যান্ড ফেবার’ তাদের কিছু বইয়ে ‘মানবসৃষ্ট’ সিল ব্যবহার করছে। লেখক সারাহ হল এআই ব্যবহৃত লেখাকে ‘সৃজনশীল চুরি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান পাণ্ডুলিপি থেকে ই-বুক সংস্করণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা করে সনদ প্রদান করছে। ভবিষ্যতে গান, আলোকচিত্র ও অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রেও এমন যাচাইভিত্তিক সনদ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অ্যালান ফিঙ্কেল মনে করেন, মানুষের মেধাকে সুরক্ষিত রাখতে এই ধরনের নির্ভরযোগ্য সনদ এখন সময়ের দাবি।

সিমু/আরটিএনএন