সকালে ঘুম ভাঙতেই অনেকের প্রথম কাজ মুঠোফোন হাতে নেওয়া। অ্যালার্ম বন্ধ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোখ বুলানো এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়, সেখানে যে লেখাগুলো, ছবিগুলো বা ভিডিওগুলো সামনে আসে তার বেশিরভাগই আমাদের পছন্দের সঙ্গে মিলে যায়। এটি নিছক কাকতালীয় নয়,এর পেছনে কাজ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
আমরা অনলাইনে কী পছন্দ করছি, কোথায় মন্তব্য দিচ্ছি, কতক্ষণ একটি ভিডিও দেখছি এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন মাধ্যম আমাদের জন্য আলাদা এক ডিজিটাল জগৎ তৈরি করে। ফলে আমরা যা দেখি, তা অনেকাংশেই বাছাই করা। প্রশ্ন উঠছে আমরা কি নিজের পছন্দে দেখছি, নাকি আমাদের পছন্দ গড়ে দেওয়া হচ্ছে?
খোঁজার আগেই পাওয়া উত্তর
ইন্টারনেটে কিছু খুঁজতে গেলেই মুহূর্তে অসংখ্য ফলাফল চলে আসে। আপনি কোথায় আছেন, আগে কী খুঁজেছেন, কী ধরনের বিষয় পছন্দ করেন সব মিলিয়ে তৈরি হয় ফলাফলের তালিকা। অর্থাৎ একই শব্দ লিখলেও সবার সামনে এক ফলাফল আসে না। প্রত্যেকের জন্য তথ্য আলাদা করে সাজানো হয়।
চলার পথে অদৃশ্য সহায়ক
রাস্তার যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে মানচিত্রভিত্তিক সেবাগুলো এখন অনেকের ভরসা। এসব সেবা লক্ষাধিক ব্যবহারকারীর চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয় কোন রাস্তায় চাপ বেশি, কোথায় গাড়ি ধীরগতিতে চলছে। আমরা যে পথকে ফাঁকা ভাবি, তার পেছনেও রয়েছে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ।
বিনোদনে পরিকল্পিত টান
একটি ভিডিও দেখার পর আরেকটি ভিডিও এভাবে সময় কখন পেরিয়ে যায়, টের পাওয়া যায় না। অনলাইন ভিডিও ও ধারাবাহিক প্রদর্শনের মাধ্যমগুলো দর্শকের অভ্যাস বুঝে পরবর্তী বিষয় সাজায়। কোন অংশে বেশি সময় কাটানো হয়েছে, কোথায় বন্ধ করা হয়েছে সবকিছু হিসাব করা হয়। এতে ব্যবহারকারীর মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
নিরাপত্তায়ও প্রযুক্তির ভূমিকা
ব্যাংকিং লেনদেনে অস্বাভাবিক কিছু ঘটলে অনেক সময় তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা আসে। আগের লেনদেনের ধরন, সময় ও স্থান বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত করা হয়। এতে জালিয়াতি ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে। তবে এখানেও প্রশ্ন থাকে একটি ব্যবস্থা যদি এত কিছু জানে, তাহলে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য কতটা সুরক্ষিত?
বাংলাদেশেও বিস্তার
দেশে আর্থিক প্রযুক্তি, দূরসংযোগ, বাণিজ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে ধীরে ধীরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও যন্ত্রশিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা চালু হয়েছে। অনলাইন শিক্ষামাধ্যম শিক্ষার্থীর শেখার গতি বুঝে পাঠ্যবিষয় সাজিয়ে দিচ্ছে।
সুবিধা ও সতর্কতা
এই প্রযুক্তি আমাদের সময় বাঁচায়, সিদ্ধান্তে সহায়তা করে, নিরাপত্তা জোরদার করে। তবে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকেই শর্তাবলি না পড়ে বিভিন্ন অনুমতি দিয়ে দেন। একই সঙ্গে অপরাধীরাও উন্নত কৌশলে প্রতারণার চেষ্টা করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজে ভালো বা খারাপ নয়,ব্যবহারই নির্ধারণ করে এর প্রভাব। তাই প্রয়োজন সচেতনতা, তথ্যের সুরক্ষা এবং নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।
আগামীকাল সকালে যখন আবার ফোন হাতে নেবেন, একবার ভেবে দেখুন পর্দার ওপারে যে প্রযুক্তি কাজ করছে, তাকে আপনি নিয়ন্ত্রণ করছেন, নাকি সে আপনাকে প্রভাবিত করছে? সচেতন ব্যবহারই পারে প্রযুক্তিকে আমাদের সহায়ক করে তুলতে।
সিমু/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!