নাটোর, শিক্ষক
নিহত রেজাউল করিম।   ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় এক কলেজ শিক্ষক ও জিয়া পরিষদের নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ নেতার স্বজনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে আগুনে পুড়ে এক বৃদ্ধা নারীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের কদমতলা কুমারপাড়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম।

নিহত রেজাউল করিম (৫৩) সিংড়া উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য এবং নাটোর জেলা আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি স্থানীয় বিলহালতি ক্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাবিহা বেগম (৭৫) কলম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুন্সির বড় ভাইয়ের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের খাবার শেষে রেজাউল করিম বাড়ির আশপাশে হাঁটতে বের হন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও ক্ষোভে উত্তেজিত জনতা পাশের আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন মুন্সির ভাতিজা আবদুল ওহাবের বাড়ি ও দোকানে আগুন দেয়। এতে পুরো বাড়ি ও দোকান পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘরের ভেতরে থাকা সাবিহা বেগম আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত রেজাউল করিমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সিংড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম বলেন, রেজাউল করিমের গলা ও মুখমণ্ডলে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডে বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনাটিও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। উভয় মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

এমকে/আরটিএনএন