চার দফা দাবিতে আজ সকাল আটটা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা এই ধর্মঘটের কারণে বন্দরের জেটি ও বহির্নোঙরে কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।
বন্দরের মূল জেটিতে ১২টি জাহাজ রয়েছে। বহির্নোঙরে রয়েছে পণ্যবাহী ৫০টি জাহাজ। এসব জাহাজে পণ্য খালাস হচ্ছে না। সকাল থেকে বন্দর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা দেখা গেছে। বন্দর ভবনের সামনে ৪ নম্বর গেটে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বন্দরের ভেতরে যানবাহন নেই বললেই চলে।
সকাল থেকেই জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল ও প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি বহির্নোঙরেও (আউটার লাইটারেজ) পণ্য খালাস ও পরিচালনা কাজ বন্ধ রয়েছে।
সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, বন্দরের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সবসময় সতর্ক রয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০ সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা এই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন।
এর আগে নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা না দেওয়ার দাবিতে ৩১ জানুয়ারি থেকে ৮ ঘণ্টা করে তিন দিন কর্মবিরতি পালন করে তারা । মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় লাগাতার কর্মবিরতি। এতে বন্দরের কনটেইনার পরিবহনের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে আন্দোলনকারীদের এক বৈঠকের পর লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়। তবে এরপরই আন্দোলনকারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় বন্দর। এতে বন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আন্দোলন উসকে দেওয়ার অভিযোগ এনে রোববার থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
তাদের চার দফা দাবি হলো সেগুলো হলো বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল বা এনসিটি ডিপিওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া, সংকট সৃষ্টির প্রধান কারণ বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন বলেন, শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত সংগ্রাম পরিষদের দুজন প্রবীণ নেতাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। বন্দর চেয়ারম্যান শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমন করতে চাইছেন। শক্তি প্রয়োগ হলে আরও কঠিন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আলোচনা ছাড়া শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমানো যাবে না।
এমআর/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!