কে বি অর্কিক প্লাজা, আগুন, নিহত ২, চট্টগ্রামে আগুন, চট্টগ্রাম, সারাদেশ, ঈদের আগে আগুনে নিভে গেল দুই পরিবারের স্বপ্ন
কে বি অর্কিড প্লাজায় আগুন ভোনোর পরের দৃশ্য।   ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের টেরিবাজারের কে বি অর্কিড প্লাজায় আগুনে দুইজন প্রাণ হারালেন—২৮ বছর বয়সী মুনতাসির সোলায়মান আবিদ ও ৫২ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউনুস। বয়সে ফারাক থাকলেও কাজের ধারা ও স্বপ্নে দুজনই সমান ছিলেন। কিন্তু এক রাতের আগুন দুই পরিবারের স্বপ্ন ছিন্নভিন্ন করে দিল।

আবিদ একটি দোকানে নৈশপ্রহরী হিসেবে কাজ করতেন, দিনেও অন্য প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাপ্রহরীর দায়িত্বে থাকতেন। সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনার স্বপ্নে বিভোর তিনি বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অন্যদিকে ইউনুস দুই দশক ধরে দর্জির কাজ করতেন। রমজানে বাড়ি না গিয়েও অতিরিক্ত আয়ের আশায় দীর্ঘ সময় কাজ করতেন।

ঘটনার রাতে তারা সেহরি খেয়ে ভবনের ষষ্ঠতলায় অবস্থিত এবাদতখানায় ঘুমাতে যান। চতুর্থ তলায় আগুন লাগার পর ধোঁয়া পুরো ভবনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ভোরে ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টে তারা নিস্তেজ হয়ে যান। এক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আবিদের বাড়ি পটিয়ার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাচুরিয়া গ্রামে, এবং ইউনুসের বাড়ি একই উপজেলার জিরি সাইদাঁইর মির্জাবাড়িতে। ঈদের এক দিন আগে এই মর্মান্তিক ঘটনায় দুই পরিবারের আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো।

আবিদের প্রতিবেশী সূত্রে জানাযায়, “আবিদ দুই বছর আগে বিয়ে করেছিলেন। তিন মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে এবার প্রথম ঈদ উদযাপনের স্বপ্ন ছিল। তিনি অতিরিক্ত আয়ের জন্য রাতদিন খাটতেন। এখন তার পরিবারের স্বপ্ন ছিন্ন।”

ইউনুসের পারিবারিক সূত্র জানান, “শতশত জামা তৈরির পরও তিনি সেহরি খেয়ে ষষ্ঠতলায় ঘুমাতেন। আগুনের ধোঁয়ায় সেখানেই শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হলো। তিন ছেলে ও তিন মেয়ের পরিবারে অজান্তেই বয়ে গেছে চাপা কান্না।”

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল মান্নান জানান, “চতুর্থ তলায় আগুন লাগলেও ধোঁয়া ছড়িয়ে যাওয়ায় ছয়তলার মসজিদ থেকে তিনজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মূলত ধোঁয়ার কারণে তারা মারা যান।”

আরবিএ/আরটিএনএন