নির্বাচন
নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন চেয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা,অন্যদিকে প্রদত্যাগ করেছেন বিএনপিপন্থী ৮ শিক্ষক।   ছবি: আরটিএনএন

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদনের প্রতিবাদে এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন চেয়ে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। 

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে  ক্যাম্পাস।

জানা গেছে, আগামীকাল ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে রবিবার নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ। 

রিট আবেদনে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের একটি নির্দেশনা রয়েছে। এ অবস্থায় শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজন আইনসংগত নয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

রিট দায়েরের খবরে ক্যাম্পাসে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে। সোমবার বেলা ১১টায় বিভিন্ন হল ও অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা দ্রুত নির্বাচন আয়োজন এবং আইনি জটিলতা নিরসনের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন পর শাকসু নির্বাচন আয়োজন করা হলেও শেষ মুহূর্তে তা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে,  নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে শাকসু নির্বাচনের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারসহ তিন দফা দাবিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। 

তাদের দাবি, বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাবে শাবিপ্রবি ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশন একটি ‘নজিরবিহীন ও বিতর্কিত’ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সংগঠনটির মতে, এ প্রজ্ঞাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি অশনিসংকেত।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রশিবির সমর্থিত দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, হাসিনার আমলে পেশি শক্তির বলে দীর্ঘ কয়েক দশক ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে দেওয়া হয়নি। এখনো একটা গোষ্ঠী নিজেরা দেউলিয়া হয়ে নানান অজুহাতে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরন করতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না। শিক্ষার্থীদের পক্ষে রায় না আসা পর্যন্ত বাসায় ফিরব না। আশা করি, আজকে হাইকোর্ট শিক্ষার্থীদের পক্ষেই রায় দেবে।

এদিকে,নির্বাচনের এক দিন আগেই নির্বাচন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপিপন্থী ৮ শিক্ষক। প্রশাসনের নানা অনিয়মের অভিযোগে অপারগতা প্রকাশ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

দুপুর ১২টায় নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের নিচতলায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফ উদ্দিন। 

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছি না। আমরা আহ্বান জানাব, অন্যরাও যাতে দায়িত্ব পালন না করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের আচরণে বিব্রতবোধ করছি। ভাইস চ্যান্সেলরকেও জানিয়েছি এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন করবে কি না। নির্বাচন পরিচালনায় হয়তো ২০০ শিক্ষক লাগবে। এখান থেকে আমাদের মতের সাথে একাত্মতা যারা পোষণ করে তারাও সরে আসবেন।