রানের বন্যায় ভেসে যাওয়া এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ভারত। পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নিতে পারেনি ইংল্যান্ড। তরুণ ব্যাটার জ্যাকব বেথেলের ঝড়ো সেঞ্চুরির পরও ভারত ৭ রানের নাটকীয় ব্যবধানে জয় পায়। এই জয়ের মাধ্যমে স্বাগতিক ভারত দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি তাদের। ইনিংসের শুরুতেই ওপেনার অভিষেক শর্মা মাত্র ৯ রান করে আউট হয়ে গেলে প্রথম ধাক্কা খায় দল। তবে এরপর ক্রিজে এসে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন সাঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণ।
দুজনের জুটিতে দ্রুত রান বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ৯৭ রান। ইশান কিষাণ মাত্র ১৮ বলে ৩৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে আউট হলেও স্যামসন ব্যাট হাতে আগ্রাসী মেজাজ ধরে রাখেন। তিনি দ্রুত অর্ধশতক তুলে নেন এবং সেঞ্চুরির দিকেও এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক স্পর্শ করার আগেই থামতে হয় তাকে। উইল জ্যাকসের বলে ফিল সল্টের হাতে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে ৪২ বলে ৮৯ রান করেন স্যামসন। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও সাতটি ছক্কা।
এরপর চার নম্বরে নেমে কার্যকর ইনিংস খেলেন শিবম দুবে। তিনি ২৫ বলে একটি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে ৪৩ রান করেন। তবে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি; মাত্র ৬ বলে ১১ রান করে ফিরতে হয় তাকে।
ইনিংসের শেষ দিকে ভারতের রান আরও দ্রুত বাড়িয়ে দেন হার্দিক পান্ডিয়া ও তিলক ভার্মা। হার্দিক ১২ বলে ২৭ রান করেন, আর তিলক ভার্মা মাত্র ৭ বলে ২১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তাদের দ্রুতগতির ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫৩ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত। অপরাজিত থাকেন অক্ষর প্যাটেল (২) ও বরুণ চক্রবর্তী (০)।
ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে দুটি করে উইকেট নেন উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ। এছাড়া একটি উইকেট শিকার করেন জোফরা আর্চার।
২৫৪ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই ওপেনার ফিল সল্ট ৫ রান করে আউট হন। হার্দিক পান্ডিয়ার বলে অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। কিছুক্ষণ পর অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও ৬ বলে ৭ রান করে আউট হলে বিপাকে পড়ে দল।
পাওয়ার প্লের শেষ দিকে আরেকটি ধাক্কা আসে ইংল্যান্ড শিবিরে। জস বাটলার ১৭ বলে ২৫ রান করে বরুণ চক্রবর্তীর বলে বোল্ড হন। তবে দ্রুত রান তোলার গতি ধরে রাখে দলটি। পাওয়ার প্লে শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৬৮ রান।
এরপর ম্যাচে নতুন মোড় আনেন তরুণ ব্যাটার জ্যাকব বেথেল। টম ব্যান্টন ও উইল জ্যাকসকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তিনি। টম ব্যান্টন ৫ বলে ১৭ রান করে আউট হলেও বেথেল তার আগ্রাসী ব্যাটিং থামাননি। মাত্র ১৯ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি।
উইল জ্যাকস ২০ বলে ৩৫ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এছাড়া স্যাম কারান ১৪ বলে ১৮ রান করেন। তবে পুরো ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন বেথেলই। তিনি মাত্র ৪৮ বলে ১০৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। তার ব্যাট থেকে আসে সাতটি চার ও আটটি ছক্কা। বেথেলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচে টিকে ছিল ইংল্যান্ডের জয়ের আশা।
তবে শেষ মুহূর্তে স্নায়ুর চাপ সামলে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে ভারত। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ড করতে পারে ২৪৬ রান, ফলে ৭ রানের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ভারত।
ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া, তিনি নেন দুটি উইকেট। এছাড়া জসপ্রিত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্তীসহ অন্য বোলাররাও একটি করে উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখেন।
শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চকর এই জয়ের মধ্য দিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় ভারত। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে নিউজিল্যান্ড, যেখানে বিশ্বকাপ জয়ের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই দল।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!