বিসিএস পরীক্ষা
৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা।   ছবি: আরটিএনএন

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দুই লাখ ৯০ হাজার ৯৫১ জন পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। 

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা ও দেশের আরও সাতটি বিভাগীয় শহরের নির্ধারিত কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

রাজধানী ঢাকাসহ রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ—এই আটটি বিভাগীয় শহরের ১৯০টি কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
পরীক্ষা শেষে রাজধানীর ইডেন কলেজ কেন্দ্র থেকে বের হওয়া কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে আরটিএনএন। তিতুমীর কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা এক পরীক্ষার্থী জানান, তার প্রস্তুতি ভালো থাকলেও কিছু প্রশ্ন সিলেবাসের বাইরে হওয়ায় পরীক্ষা প্রত্যাশামতো হয়নি। তিনি বলেন, “এটা আমার তৃতীয় বিসিএস। আগের দুবারের তুলনায় এবার প্রশ্ন একটু বেশি কঠিন ছিল। বিশেষ করে গণিত আর বাংলা ব্যাকরণ।”

পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো অনিয়ম চোখে পড়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “না, তেমন কোনো অনিয়ম বা অনৈতিক কিছু চোখে পড়েনি। পুরো পরীক্ষাটাই খুব সুশৃঙ্খলভাবে হয়েছে।”
হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত আরেক পরীক্ষার্থী জানান, বর্তমানে চাকরিরত থাকায় তার প্রস্তুতি তেমন ভালো হয়নি। তিনি বলেন, “এটা আমার দ্বিতীয় বিসিএস। সামগ্রিকভাবে আগের বারের চেয়ে এবারের পরীক্ষা তুলনামূলক ভালো হয়েছে।”

এদিকে কবি নজরুল কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, প্রশ্নের মান মাঝারি ছিল। তার ভাষায়, “খুব কঠিনও না, আবার খুব সহজও না। আমার পরীক্ষা ভালো হয়েছে।” কতদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনার্স তৃতীয় বর্ষ থেকেই বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করেন এবং গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর থেকে পুরোদমে পড়াশোনা করছেন।

এভাবেই হাজারো স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে শেষ হয় ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। যারা স্বপ্ন দেখেন বিসিএস ক্যাডার হয়ে নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে রাষ্ট্রের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) জানিয়েছে, দুই ঘণ্টাব্যাপী এই এমসিকিউ পরীক্ষায় মোট ২ লাখ ৯০ হাজার ৯৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে ম্যাজিস্ট্রেট, কেন্দ্র পরিদর্শক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পিএসসির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরীক্ষার্থীদের সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নিজ নিজ কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হয় এবং এ সময়ের পর কেন্দ্রের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্যাগসহ সব ধরনের নিষিদ্ধ সামগ্রী বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। কোনো প্রার্থীর কাছে এসব পাওয়া গেলে প্রার্থিতা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এবারের বিসিএসে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে মোট ২ হাজার ১৫০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫টি ক্যাডার পদের বিপরীতে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে—৬৫০ জন। 

এছাড়া প্রশাসন ক্যাডারে ২০০ এবং পুলিশ ক্যাডারে ১১৭ জন কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে ৫১তম বিসিএসের আগেই ৫০তম বিসিএসের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করছে কমিশন। পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেম বলেন, “‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে চূড়ান্ত ফল—সব মিলিয়ে ১২ মাসের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।”