ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখন এক ভিন্ন আবহ। বছরের বেশিরভাগ সময় যে ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে, ঈদের ছুটি শুরু হতেই সেখানে নেমে এসেছে এক ধরনের শান্ত নিস্তব্ধতা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ইতোমধ্যেই বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন হাজারো শিক্ষার্থী।
গত রোববার (১৫ মার্চ) ভোর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর সামনে দেখা গেছে ব্যস্ততার চিত্র। ব্যাগ, লাগেজ আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে একে একে হল ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা। কেউ অটোরিকশা, কেউ রাইড শেয়ার কিংবা ব্যক্তিগত মোটরবাইকে করে ছুটছেন বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন কিংবা লঞ্চঘাটের দিকে। দীর্ঘদিন পর পরিবারের কাছে ফেরার আনন্দ যেন তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট।
ক্লাস ও পরীক্ষা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় আবাসিক হলগুলো দ্রুত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে অনেক হলেই নেমে এসেছে নিরবতা। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ হল ক্যান্টিন ও আশপাশের ছোট খাবারের দোকানগুলো। ফলে যে কোলাহল আর আড্ডায় ভরপুর থাকত ক্যাম্পাস, তা এখন অনেকটাই ম্লান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত টিএসসি, মল চত্বর এবং কার্জন হল এলাকা—যেখানে প্রতিদিন আড্ডা, সাংস্কৃতিক চর্চা আর নানা কর্মকাণ্ডে সরগরম থাকে—সেসব জায়গাতেও এখন ভিড় নেই বললেই চলে। টিএসসি চত্বরে নেই সেই চেনা হাসি-আড্ডা, কার্জন হল এলাকাও যেন আজ কিছুটা নির্জন। একইভাবে নীলক্ষেত ও শাহবাগ এলাকাতেও বড় ব্যাগ হাতে বাড়িমুখো শিক্ষার্থীদের দেখা মিলছে বেশি।

এর আগে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার প্রবণতা আরও বেড়েছে। তবে এখনও কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন—কেউ ব্যক্তিগত কারণে কয়েকদিন পরে বাড়ি যাবেন, আবার কেউ ঈদের সময়টুকু ক্যাম্পাসেই কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে আগামী ২৯ মার্চ থেকে পুনরায় শুরু হবে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। তখন আবার প্রাণ ফিরে পাবে এই ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পাস। নতুন উদ্যমে ক্লাস, পরীক্ষা, আড্ডা আর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মুখর হয়ে উঠবে চিরচেনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সব মিলিয়ে, ঈদের ছুটি যেন সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে এই ক্যাম্পাসের চেনা ছন্দ। তবে এ বিরতি কেবলই ক্ষণিকের—প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি শেষে শিক্ষার্থীরা আবার ফিরবেন তাদের স্বপ্ন আর সংগ্রামের ঠিকানায়। তখন আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে প্রিয় ক্যাম্পাস।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!