ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং, তার কণ্ঠের জাদুতে মজে গানের দুনিয়া। হিন্দি কিংবা বাংলা, উভয় ভাষাতে গান গেয়ে ভক্ত ও সমালোচকদের মাঝে অবিস্মরণীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। তবে সংগীত অনুরাগীদের জন্য এবার বড় এক দুঃসংবাদ দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে আর নতুন কোনো কাজ নেবেন না—এমন ঘোষণায় তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। প্রজাতন্ত্র দিবসে নতুন ছবির গান মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এই ঘোষণা দেন তিনি।
অরিজিতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখা হয়, ‘প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আর কোনো নতুন কাজ নেব না। এখানেই এটি বন্ধ করছি।’ হঠাৎ এই ঘোষণায় ভক্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ ও বিস্ময়।
তবে সংগীতচর্চা থেকে সরে যাচ্ছেন না—এ কথাও স্পষ্ট করেন গায়ক। তিনি লেখেন, ‘পরিষ্কার করে বলছি, সংগীতের কাজ বন্ধ করছি না।’ কেন এমন সিদ্ধান্ত, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি। পরে এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া আরেক পোস্টে অরিজিৎ জানান, হাতে থাকা কাজগুলো শেষ করবেন। তার কথায়, ‘এই বছর কিছু রিলিজ পাবেন।’
ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া তীব্র। অনেকেই এই সিদ্ধান্তে হতবাক। প্রশ্ন উঠছে—এ কি সত্যিই প্লেব্যাক থেকে অবসর, নাকি নতুন কোনো অধ্যায়ের শুরু?
ফেসবুক পোস্টে কী লিখেছেন অরিজিৎ
মঙ্গলবার অরিজিতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হ্যালো, সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। এত বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যা দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আর কোনো নতুন কাজ নেব না। এখানেই আমি এটি বন্ধ করছি। গোটা যাত্রাটা ছিল অসাধারণ।’
পোস্টে আরও লেখেন, ‘ঈশ্বরের অসীম কৃপা ছিল আমার ওপর। আমি ভালো সংগীতের একজন অনুরাগী। ভবিষ্যতে আরও শিখব, একজন সামান্য শিল্পী হিসেবেই সংগীতসাধনা চালিয়ে যাব। পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।’
সংগীত ছাড়ছেন না, তবে…
ঘোষণার পরপরই পরিষ্কার করে দেন—সংগীত থেকে তিনি সরে যাচ্ছেন না। তার ভাষায়, ‘পরিষ্কার করে বলছি—আমি সংগীতের কাজ বন্ধ করছি না।’
কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত—এ প্রশ্নে কোনো নির্দিষ্ট উত্তর দেননি অরিজিৎ। এক অনুরাগীর প্রশ্নে হাসি দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে জানান, আপাতত হাতে থাকা কাজগুলো তিনি শেষ করবেন। পরে এক্সে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কিছু কাজ এখনো বাকি আছে। সেগুলো শেষ করব। অর্থাৎ এই বছর কিছু রিলিজ পাবেন।’

অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া
অরিজিতের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান অনুরাগীরা। একজন লেখেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিরাট কোহলির অবসরে যতটা আঘাত পেয়েছিলাম, ঠিক তেমনই আঘাত পেলাম।’
প্রেমের গান, মন খারাপের সুর, নাচের গান কিংবা ভক্তিগীতি—সব ঘরানাতেই অরিজিতের সাবলীল উপস্থিতি তাঁকে আলাদা করে চিনিয়েছে। তাই আচমকা প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় অনুরাগীদের উৎকণ্ঠা স্বাভাবিক।
মুর্শিদাবাদ থেকে তারকাখ্যাতি
পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ থেকে শুরু হয়েছিল অরিজিতের সংগীতযাত্রা। আজ তার অনুরাগী ছড়িয়ে আছে বিশ্বজুড়ে। মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই তিনি ভারতের অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী।
তবে পথচলা সহজ ছিল না। ২০০৫ সালে ১৮ বছর বয়সে ‘ফেম গুরুকুল’ রিয়েলিটি শোতে অংশ নিয়েও সেরা পাঁচে জায়গা পাননি তিনি। ষষ্ঠ হয়ে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়েন। পরে আরেকটি সংগীত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে নজরে আসেন।
২০০৭ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘সাওয়ারিয়া’ ছবির জন্য ‘ইউ শবনামি’ গানটি রেকর্ড করলেও সেটি সিনেমায় ব্যবহার করা হয়নি। ২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’–এর ‘ফির মহব্বত’ গান দিয়ে সিনেমায় প্লেব্যাক অভিষেক ঘটে অরিজিতের।
২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’–এর ‘তুম হি হো’ তাকে পৌঁছে দেয় তারকাখ্যাতির চূড়ায়। এরপর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ফিল্মফেয়ারসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। কনসার্টের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া গায়কদের একজন হিসেবেও পরিচিত অরিজিৎ।
প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে
প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ানোর এই ঘোষণা কি সত্যিই স্থায়ী সিদ্ধান্ত, নাকি নতুন কোনো সৃজনশীল অধ্যায়ের সূচনা—তা এখনো স্পষ্ট নয়। আপাতত অরিজিতের কথায় একটা বিষয় পরিষ্কার—গান থামছে না, বদলাচ্ছে শুধু পথ।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!