অনেকেই দিনের শুরুতেই এক কাপ চা পান করে স্বস্তি খুঁজে পান। কিন্তু প্রতিদিন যদি খালি পেটে চা পান করা হয়, তবে ধীরে ধীরে তা হজম, অ্যাসিডের মাত্রা এমনকি শক্তির স্তরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শুরুতে প্রভাব বোঝা না গেলেও এক মাসের মধ্যে শরীর এর প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে।
ভারতের বেঙ্গালুরুর অ্যাস্টার আরভি হাসপাতালের সিনিয়র ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট অদিতি প্রসাদ আপ্তের মতে, চায়ে থাকা ট্যানিন, ক্যাফেইন, দুধ, চিনি ও বিভিন্ন মসলা হজমতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। কিন্তু পেটে খাবার না থাকলে এই উদ্দীপনা অনেক সময় শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, খালি পেটে চা পান করলে হজমপ্রক্রিয়া, বিপাকক্রিয়া এবং অন্ত্রের স্বস্তি ব্যাহত হতে পারে। খাবার না থাকায় হঠাৎ করেই গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড নিঃসরণ বেড়ে যায়।
পাকস্থলীতে সমস্যা
খালি পেটে চা পান করলে অ্যাসিডিটি বাড়ে। চা স্বাভাবিকভাবেই অ্যাসিড উৎপাদন বাড়ায়, আর সকালে খাবার ছাড়া চা পান করলে সেই অ্যাসিডের কাজ করার মতো কিছু থাকে না। ফলে সময়ের সঙ্গে পাকস্থলীর আস্তরণে জ্বালা তৈরি হতে পারে।
এর ফলে বুক জ্বালা, বমিভাব, পেট ফাঁপা বা উপরের পেটে ভারী লাগার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে উপসর্গ আরও বাড়তে পারে।
পেট ফাঁপা ও মলত্যাগের পরিবর্তন
দুধ চা পান করলে কারও কারও হজম ধীরগতির হতে পারে। দুধ চা পান করার ফলে গ্যাস বা ভারী লাগার অনুভূতি হয়। একই সঙ্গে ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্র ও অন্ত্রকে উদ্দীপিত করে, যার ফলে সকালে হঠাৎ মলত্যাগের তাগিদ দেখা দিতে পারে। বারবার খাবার ছাড়া এই উদ্দীপনা অন্ত্রকে সময়ের সঙ্গে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
পুষ্টি শোষণে প্রভাব
সকালের চা সাময়িকভাবে সতেজ অনুভূতি দিলেও এই শক্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ক্যাফেইন প্রথমে শক্তি বাড়ালেও পরে অস্থিরতা বা হঠাৎ শক্তি কমে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যদি সকালের নাশতা দেরিতে করা হয়।
চায়ে থাকা ট্যানিন শরীরে আয়রন শোষণ কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে খাবার ছাড়া চা পান করলে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে যাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতির ঝুঁকি আছে, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়তে পারে।
সকালে খালি পেটে চা খেলে গোলযোগ সৃষ্টি করে। খালি পেটে গরম গরম চা খেলে তা আলসারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
সমাধান কী?
সকালের চা পুরোপুরি বাদ দেয়ার প্রয়োজন নেই। তবে নাশতা গ্রহণের পরে অথবা অন্তত কিছু খাবারের সঙ্গে চা পান করলে অ্যাসিডের জ্বালা কমে এবং পাকস্থলীর ওপর চাপও কম পড়ে।
সবচেয়ে ভালো হলো সকালে উঠেই ১/২ গ্লাস পানি খেয়ে ফেলা। তাতে করে আপনার পাকস্থলীটা এক্কেবারে পরিষ্কার হয়ে যায়। সকালে খালিপেটে পানি খাওয়ানোর অভ্যাস করে ফেলুন এর ফলাফল খুব তাড়াতাড়ি আপনি পাবেন। চিকিৎসকরা বলেন, সকালে উঠে হালকা কুসুম গরম পানিতে খানিকটা লেবুর রস, আদা ছেঁচে সেটার রস দিয়ে খেয়ে নিবেন। এটা আপনার জন্য অনেকভালো হবে।
সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!