বলিউড,  ইমরান হাশমি, ফ্যামিলি ম্যান, মার্ডার, পারভিন হাশমি, আয়ান হাশমি
ফ্যামিলি ম্যান বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি সঙ্গে ছেলে আয়ান হাশমি।   ছবি: সংগৃহীত

লিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি। তাকে ভক্ত অনুরাগীরা ‘সিরিয়াল কিসার’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। রূপালী পর্দায় ইমরান হাশমির ভাবমূর্তি যেমনই হোক না কেন, বাস্তব জীবনে তিনি পুরোপুরি ‘ফ্যামিলি ম্যান’। ২০১০ সালে ৩ ফেব্রুয়ারি এ সংসার আলো করে জন্ম নেয় পুত্র আয়ান হাশমি। স্ত্রী পারভিন হাশমি আর একমাত্র ছেলে আয়ান কে নিয়ে তার সংসার। 

প্রায় এক যুগ আগে একটি বিকেল ইমরান হাশমির জীবন ওলট-পালট করে দিয়েছিল। রণবীর আলাবাদিয়াকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন ‘মার্ডার’ তারকা।

মাত্র ১২ ঘণ্টায় বদলে গিয়েছিল ইমরানের জীবন, যখন জানতে পারেন তার ছেলে আয়ানের ক্যানসার হয়েছে। পাঁচ বছর কঠিন লড়াইয়ের পর ইমরানের ছেলে এখন ক্যানসারমুক্ত। যখন এই রোগ ছোট্ট আয়ানের দেহে থাবা বসায় তখন তার বয়স ছিল মাত্র চার বছর। 

ইমরান বলেন, ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে একেবারে স্বাভাবিক একটি দিনেই হঠাৎ ঝড় আসে তার পরিবারে। পরিবার নিয়ে বাইরে গিয়েছিলেন। আর পাঁচটা দিনের মতোই ছিল সে দিনের সকাল। আমি, আমার ছেলে ও পরিবারের অন্যেরা মিলে পিৎজা খাচ্ছিলাম। সেই সময় ছেলের প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বের হতে দেখি। 

তারপর এক মুহূর্তে নষ্ট না করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতেই তিনি জানান, আয়ানের অস্ত্রোপচার করতে হবে। কারণ ওর ক্যানসার হয়েছে। মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে যেন ওলট পালট হয়ে যায় আমার সব কিছু। কেরিয়ার, কাজ, সিনেমা সবকিছু তখন একেবারে গৌণ হয়ে যায়। একজন বাবা হিসেবে সেই সময় তার একমাত্র লড়াই ছিল ছেলেকে সুস্থ করে তোলা।

এরপর থেকেই শুরু হয় অভিনেতার জীবনের লড়াই। আয়ানের ক্যানসার এবং নিজের ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপড়েন নিয়ে ‘দ্য কিস অব লাইফ’ নামে একটি বইও লিখেছেন ইমরান । ছেলে এমন মারণরোগে আক্রান্ত শুনেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্ত্রী সব সময়ই তাকে সাহস জুগিয়েছেন লড়াই করার।

বাস্তব জীবনের উপলব্ধি তুলে ধরে বইয়ে ইমরান লিখেছেন, ‘নারী পুরুষের থেকে মানসিকভাবে অনেকটাই শক্তিশালী।’ তবে ইমরান জানান, ছেলের ক্যানসার ধরা পড়ার পর সেই পাঁচটা বছর প্রতিটা মুহূর্তে ভয়ে বাঁচতেন। এক মুহূর্তও স্বস্তি ছিল না। দীর্ঘ মানসিক টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় অভিনেতাকে।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর শেষ পর্যন্ত আসে স্বস্তির খবর। কয়েক বছরের চিকিৎসার শেষে আয়ান সম্পূর্ণভাবে ক্যানসারমুক্ত হয়। আজ সে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। সেই সময়ের কথা মনে করে ইমরান বলেন, ছেলের সুস্থ হয়ে ওঠাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

তিনি মনে করেন, এই কঠিন সময় তাঁকে জীবনের আসল মূল্য এবং ধৈর্য ধরে থাকতে শিখিয়েছেন। অভিনেতার জীবনসংগ্রামের গল্প বহু বাবা-মায়ের কাছেই আজ অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া