জাহের আলভী ও তার স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা
জাহের আলভী ও তার স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা   ছবি: সংগৃহীত

ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। তবে ইকরার মৃত্যুর পেছনের কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইকরার পরিবারের সদস্য, মা রেবেকা সুলতানা এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা অভিযোগ করেছেন, জাহের আলভীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ইকরার মানসিক চাপের কারণ হয়ে উঠেছে।

ইকরার বান্ধবী সামিয়া আলম জানিয়েছেন, ইকরা মোটেও এমন মেয়ে নন, যিনি সহজভাবে আত্মহত্যার মতো পদক্ষেপ নিতেন। সামিয়ার কথায়, যতটা জানা যায়, ইকরা ইতিমধ্যেই রুম শিফট করেছে। আলভী যখন দেশে ফিরবেন, তখন তারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা ভাবছিলেন। 

ইকরা বলছিলেন, ‘আমি আলভীকে ডিভোর্স দিয়ে দেব।’ সেই সঙ্গে তারা সন্তান রিজিক এবং ব্যবসার বিষয়েও আলাপ করেছিলেন। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়ে ফোনে আলভী এমন কিছু বলেছিলেন, যা ইকরা সহ্য করতে পারেননি।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ইকরার মৃত্যু আত্মহত্যা হিসেবে দেখছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায়। ঘটনার সময় জাহের আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন। তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে ছিল রোববার। দেশে ফিরেই এই বিষয়টি নিয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলবেন এমনটাই জানিয়েছেন আলভীর ঘনিষ্ঠজনেরা। ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আজই ইকরার ময়নাতদন্ত শেষে ইকরার বাড়িতে দাফন সম্পন্ন হয়।

ইকরার বান্ধবী সামিয়া আলম আরও জানান, ইকরা ও তার বন্ধু খাদিজা লুপিন ও সামিয়ার মধ্যে ১১ বছর ধরে বন্ধুত্ব রয়েছে। তারা একটি ফেসবুক গ্রুপে নিয়মিতই যোগাযোগ রাখেন। ঘটনার দিন শনিবার সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে ইকরা একটি মেসেজ পাঠান, যেখানে তিনি লিখেছিলেন যে তিনি নেপালে যাচ্ছেন। বন্ধুরা প্রথমে বিষয়টিকে হালকা ভাবে নিয়েছিলেন। পরে দুপুর ১টা ২৭ মিনিটে খাদিজা লুপিন ফোন করে জানতে চাইলে, ইতিমধ্যেই ঘটনা ঘটে গেছে।

ঘটনার সময় রিজিক কোথায় ছিলেন, জানতে চাইলে সামিয়া বলেন, আলভীর সহকারী অর্ক জানিয়েছেন, বাসায় ছিল। তবে দুর্ঘটনার সময় ইকরার সঙ্গে আলভী ফোনে কথাও বলছিলেন। সামিয়া আলম বলেন, ইকরা তার বন্ধুত্ব এবং পরিবারকে নিয়ে সবসময় সরল এবং বুদ্ধিমান মেয়ে ছিলেন। কিন্তু যেটা ঘটেছে তা আমরা কেউই বোঝা সম্ভব হয়নি। এটি জানা প্রয়োজন যে, শেষ মুহূর্তে ফোনে আলভী কী বলেছিলেন, যা ইকরা সহ্য করতে পারেননি।