ইরানে হামলা, ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর হলিউড তারকারা
ইরানে হামলা, ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর হলিউড তারকারা   ছবি: সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রেক্ষিতে হলিউডের নামকরা তারকারাও মন্তব্য করতে শুরু করেছেন এবং অনেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশল ও সিদ্ধান্তগুলোকে সরাসরি সমালোচনা করেছেন।

ভ্যারাইটি সূত্রে জানা গেছে, অভিনেতা মার্ক রাফালো ট্রাম্পের কট্টর সমালোচকদের একজন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। রাফালো আরও বলেন, কিছু কৌশল বা নীতি এমন পথে পরিচালিত হচ্ছে যা সরাসরি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, এবং সেই প্রক্রিয়ায় এমন কিছু ব্যক্তিকেও যুক্ত করা হয়েছে, যারা যুদ্ধকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করছে।

সংগীতশিল্পী জ্যাক হোয়াইটও সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণা এবং নীতিমালার সমালোচনা করেছেন। হোয়াইট মন্তব্য করেন, একজন রাষ্ট্রপতি যখন যুদ্ধ ঘোষণা করেন, তখন সেই পদ্ধতি এবং বক্তব্য অত্যন্ত সমালোচনাযোগ্য। এছাড়া হোয়াইট ট্রাম্পের নতুন আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’ কে ব্যঙ্গ করেছেন। এই উদ্যোগ গাজা উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই তৈরি, কিন্তু হোয়াইট মনে করেন, এটি ট্রাম্পের শান্তি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অভিনেতা জন কুসাকও নিজের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে লিখেছেন, এই যুদ্ধ শুরু করা সরকারের মনোযোগ অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে সরাতে সাহায্য করছে। অভিনেত্রী ক্যারি কুন ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক কমিটি নিয়ে লিখেছেন, এটি সত্যিই ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’। তার ভাষায়, প্রশাসনের সামরিক নীতি এবং পরিকল্পনা শান্তির বদলে সংঘাতকে উস্কে দিচ্ছে।

কমেডি তারকা রোজি ও’ডোনেলও ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, তিনি সব সময় মিথ্যা বলেন। রোজি ও’ডোনেল বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণা তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বিপরীত, যেখানে তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার কথাই বলেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, তাঁর পদক্ষেপ শান্তির দিকের নয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক হামলা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার ক্ষেত্রে হলিউড তারকাদের মতামত সামাজিক সচেতনতা তৈরি ও সমালোচনার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কৌশল ও সামরিক সিদ্ধান্তের প্রতি সাধারণ জনগণ ও বিশ্বমঞ্চে উদ্বেগ তীব্র হয়েছে।