ডিজেল, পেট্রোল পাম্প
ডিজেলের চাহিদা ৩৫ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিপিসি।   ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে বিশ্ব তেল-বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে আর সেই প্রভাব বাংলাদেশেও এসে পড়েছে। চলতি মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশজুড়ে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২–১৮ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে ডিজেলের চাহিদা ৩৫ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়ে গেছে, অকটেন ৩৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং পেট্রোল ২১ দশমিক ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম আট দিনে দৈনিক গড়ে বিক্রি হয়েছে ১৬ হাজার ৭২০ টন ডিজেল, ১ হাজার ৫৩৯ টন অকটেন এবং ১ হাজার ৬৮৪ টন পেট্রোল। এই হিসাব অনুযায়ী, মার্চ মাসে প্রয়োজন হবে প্রায় ৫ লাখ টন ডিজেল, সাড়ে ৪ হাজার টন অকটেন এবং ৫ হাজার টনের বেশি পেট্রোল।

সরেজমিনে চট্টগ্রামের পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা গেছে, মানুষ ড্রাম, প্লাস্টিক ও লুব্রিকেন্টের বোতলে ডিজেল মজুত করছে। সরকারি-বেসরকারি অফিসের জন্য জেনারেটর চালানোর উদ্দেশ্যে এক লিটার থেকে ৪০ লিটার পর্যন্ত তেল সংগ্রহ করছেন গ্রাহকরা।

বিপিসি জানাচ্ছে, এটি মূলত ‘প্যানিক থেকে কৃত্রিম মজুত’ এর প্রভাব। সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখার জন্য সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। গত দুদিনে চট্টগ্রামে এসেছে তিনটি জাহাজে ৮৫ হাজার টন ডিজেল, যার মধ্যে একটি খালাস হয়েছে, বাকি দুটি খালাসের অপেক্ষায়।

ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রতি মাসে গড়ে ৫০ হাজার টন ডিজেল ও ১৫ হাজার টন পেট্রোল সরবরাহ করে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের ৯২ শতাংশ আমদানি করতে হয়, বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে আসে।

বিপিসির সদ্য অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোস্তফা কুদরত-এ ইলাহি বলেন, ‘মানুষ গুজবে ভাসছে। যেভাবে কৃত্রিম মজুত করা হচ্ছে, তাতে এক সপ্তাহে পাঁচ জাহাজ তেল নিয়ে আসলেও সামাল দেওয়া কঠিন।’

বিপিসির বাণিজ্য ও অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোরশেদ হোসাইন আজাদ বলেন, ‘প্যানিক কেটে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সরকার সরবরাহ চেইন সচল রাখার সব পদক্ষেপ নিয়েছে।’