যুদ্ধবিরতিতে কমেছে চাপ, ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী টাকা।
যুদ্ধবিরতিতে কমেছে চাপ, ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী টাকা।   ছবি: আরটিএনএন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে চাপ কিছুটা কমেছে। এর প্রতিফলন পড়েছে দেশীয় বাজারেও। ডলারের বিপরীতে টাকার মান সামান্য শক্তিশালী হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। 

তথ্যানুযায়ী, বুধবার প্রতি মার্কিন ডলার গড়ে ১২২ দশমিক ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ১২২ দশমিক ৮৪ টাকা।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে-এমন আশঙ্কায় সম্প্রতি আমদানিকারকদের মধ্যে ডলার কেনার প্রবণতা বেড়েছিল। এতে কয়েক দিন ধরে ডলারের দর ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সেই চাপ কিছুটা কমেছে।

একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ট্রেজারি কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধবিরতির পর ডলারের ফরওয়ার্ড বায়িং কমে এসেছে। ভবিষ্যতে নির্ধারিত দামে ডলার কেনার আগাম চুক্তিকে ফরওয়ার্ড বায়িং বলা হয়, যা সাধারণত বিনিময় হার ওঠানামার ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতি এখনও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রতি সংবেদনশীল। বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধি ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন একসঙ্গে ঘটলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিনিময় হারে কিছুটা নমনীয়তা রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

বর্তমানে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩ হাজার ৪৩৫ কোটি ডলার, যার মধ্যে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ২ হাজার ৯৮১ কোটি ডলার। এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।