শিশুদের অনলাইনে সুরক্ষা দিতে অস্ট্রেলিয়ার আদলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাজ্য। শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করা কার্যকর হবে কি না এবং হলে তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে কাজ শুরু করেছে ব্রিটিশ সরকার। এ লক্ষ্যে সোমবার একটি পরামর্শমূলক কার্যক্রম (consultation) চালু করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান তথ্য-প্রমাণ এবং বিভিন্ন প্রস্তাবনা যাচাই-বাছাই করা হবে। এর অংশ হিসেবে ব্রিটিশ মন্ত্রীরা অস্ট্রেলিয়া সফর করবেন। উল্লেখ্য, গত মাসেই ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নজির গড়েছে অস্ট্রেলিয়া। ব্রিটিশ সরকার সেখান থেকে সরাসরি অভিজ্ঞতা নিতে চায়।
কী কী পদক্ষেপ ভাবা হচ্ছে?
যুক্তরাজ্য সরকার যেসব বিষয় বিবেচনা করছে তার মধ্যে রয়েছে:
- ডিজিটাল সম্মতির বয়স (digital age of consent) বাড়ানো। বর্তমানে যা ১৩ বছর, তা পর্যাপ্ত কি না তা খতিয়ে দেখা।
- অতিরিক্ত ব্যবহার রোধে ‘ফোন কারফিউ’ ব্যবস্থা চালু করা।
- সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি সৃষ্টিকারী ফিচার, যেমন—‘স্ট্রিকস’ (streaks) এবং ‘ইনফিনিট স্ক্রলিং’ (infinite scrolling) সীমিত করা।
প্রযুক্তি ও এআই নিয়ে উদ্বেগ :
সম্প্রতি এলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স-এর ‘গ্রক এআই’ (Grok AI) চ্যাটবট ব্যবহার করে শিশুদের সম্মতিহীন আপত্তিকর ছবি তৈরির খবরে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নগ্ন ছবি তৈরির টুলগুলো (AI nudification tools) পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি শিশুরা যাতে তাদের ডিভাইসে নগ্ন ছবি তুলতে, শেয়ার করতে বা দেখতে না পারে, সে লক্ষ্যেও কাজ চলছে।
যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী লিজ কেন্ডাল বলেন, “আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে প্রযুক্তি যেন শিশুদের ক্ষতি না করে বরং তাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করে। প্রতিটি শিশু যেন তার প্রাপ্য সুন্দর শৈশব পায়, তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
রাজনৈতিক বিতর্ক :
সরকার এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমার কথা ঘোষণা করেনি, তবে ‘একটি নির্দিষ্ট বয়সের নিচে’ শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, তার দল ক্ষমতায় থাকলে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করত। প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তহীনতার অভিযোগ তুলে ব্যাডেনক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কনজারভেটিভদের গত সপ্তাহের ঘোষণাটিই নকল করার চেষ্টা করছেন, তাও ঠিকঠাক করতে পারছেন না। এটি স্টারমার ও লেবার পার্টির আরেকটি কালক্ষেপণ মাত্র, যাদের নিজস্ব কোনো ধারণা অবশিষ্ট নেই।”
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!