ডোনাল্ড ট্রাম্প, ন্যাটো
বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ প্রশমনে এবার সুর পাল্টে ব্রিটিশ সেনাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প।   ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে ন্যাটো বাহিনীর অবদান ও আত্মত্যাগের বিষয়টিকে খাটো করে মন্তব্য করার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বজুড়ে সেই ক্ষোভ প্রশমনে এবার সুর পাল্টে ব্রিটিশ সেনাদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি।

শনিবার (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ব্রিটিশ সেনাদের সাহসিকতার বন্দনা করেন। তবে এর আগের সপ্তাহেই তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, আফগানিস্তানে ন্যাটো মিত্ররা যুদ্ধের সময় "পিছনের সারিতে" ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের বার্তা :
সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প লেখেন, "যুক্তরাজ্যের মহান এবং অত্যন্ত সাহসী সেনারা সর্বদা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে! আফগানিস্তানে তাদের ৪৫৭ জন সেনা নিহত হয়েছেন, অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তারা ছিলেন সর্বকালের সেরা যোদ্ধাদের অন্যতম।"

তিনি আরও লেখেন, "এই বন্ধন এতটাই শক্তিশালী যে তা কখনোই ভাঙবে না। যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনী তাদের অদম্য সাহস ও হৃদয়ের জোর নিয়ে অদ্বিতীয় (অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের পরেই!)। আমরা তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি এবং সর্বদা বাসব।"

বিতর্কিত মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া :
গত বৃহস্পতিবার ফক্স বিজনেস-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটো সম্পর্কে বলেছিলেন, "আমাদের কখনোই তাদের (ন্যাটো) প্রয়োজন ছিল না। তারা হয়তো বলবে যে তারা সেনা পাঠিয়েছিল, কিন্তু তারা আসলে ফ্রন্টলাইন থেকে দূরে পিছনের সারিতে থাকত।"

এই মন্তব্যের পর যুক্তরাজ্যসহ ন্যাটোর অন্য মিত্র দেশগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে "অপমানজনক এবং আতঙ্কজনক" বলে অভিহিত করেন। ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য এবং আফগানিস্তান যুদ্ধের অভিজ্ঞ সেনানী প্রিন্স হ্যারিও এর কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, ন্যাটো সেনাদের আত্মত্যাগের কথা "সত্য ও সম্মানের সাথে" বলা উচিত।

এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "ন্যাটো দেশগুলোর অবদানকে খাটো করে দেওয়া কোনো বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য, বিশেষ করে যখন তা কোনো মিত্র দেশের কাছ থেকে আসে।"

স্টারমার-ট্রাম্প ফোনালাপ :
শনিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে আলাপ হয়। ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র জানান, দুই নেতা আফগানিস্তানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করা সাহসী ব্রিটিশ ও মার্কিন সেনাদের স্মরণ করেছেন। এছাড়া গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এবং আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

হোয়াইট হাউজ অবশ্য প্রথমে ট্রাম্পের মন্তব্যের পক্ষেই সাফাই গেয়েছিল। মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেছিলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সঠিক কথাই বলেছেন। ন্যাটোর অন্য সব দেশ মিলে যা করেছে, যুক্তরাষ্ট্র একাই তার চেয়ে বেশি করেছে।"

উল্লেখ্য, নাইন-ইলেভেনের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম এবং একমাত্র দেশ হিসেবে ন্যাটোর 'আর্টিকেল ৫' কার্যকর করেছিল, যার ফলে ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো ২০ বছর ধরে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে লড়াই করেছে। শনিবার ট্রাম্প ব্রিটিশ সেনাদের প্রশংসা করলেও, যুদ্ধে প্রাণ হারানো ন্যাটোর অন্য মিত্র দেশগুলোর সেনাদের নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

সূত্র : সিএনএন

আরটিএনএন/এআই